মাঝ আকাশে চরম বিপদের মুখে পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা সেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভারতীয় রোগী অঞ্জনা ভৌমিকের মরদেহ অবশেষে সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে বুধবার দুপুরে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
তামাবিল স্থলবন্দর কাস্টমস ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ বজলুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুর নাগাদ অ্যাম্বুলেন্সযোগে অঞ্জনা ভৌমিকের মরদেহ তামাবিল সীমান্তে আনা হয়। পরে দুই দেশের সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তা ভারতীয় স্বজন ও কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহের সঙ্গে তার দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র ছাড়াও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান এবং প্যারামেডিক আজিম খান ভারতে ফিরে গেছেন। সংশ্লিষ্ট তালিকায় তাদের সকলের জাতীয়তা ভারতীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর ভারতের আগরতলা থেকে এক মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বিচক্রাফ্ট কিং এয়ার সি৯০এ মডেলের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু মাঝ আকাশে প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ানোকালীন হঠাৎ করেই বিমানটির কেবিনের প্রেশার কমে যায় এবং পেছনের দরজাটি আংশিক খুলে যায়। এক চরম জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পাইলট অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে বিমানটিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।
অবতরণের পরপরই দ্রুত অসুস্থ অঞ্জনা ভৌমিককে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ওই ফ্লাইটে থাকা পাইলট, চিকিৎসক ও অন্য স্বজনেরা সম্পূর্ণ অক্ষত ছিলেন। চরম সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মৃত অঞ্জনা ভৌমিকের স্বজনেরা।
