কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের হুমকি-ধামকি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চকরিয়া ও পেকুয়ার জনপ্রতিনিধিরা।
বুধবার বিকেলে চকরিয়ার একটি হোটেলে তারা এই সংবাদ সম্মেলন করেন। চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুরাজপুর মানিকপুর ইউপির চেয়ারম্যান আজিমুল হকের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী।
এতে বলা হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন সম্পন্ন করা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে একটি নিরপেক্ষ অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞা। আমরা সেই লক্ষ্যে নিজ নিজ এলাকায় আমাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কাজ করে যাচ্ছি এবং ভোটারকে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। যা পরোক্ষভাবে নির্বাচন কমিশনের জন্য সহায়ক।
‘কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বর্তমান সংসদ জাফর আলম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ট্রাক গাড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষে কাজ না করায় এবং বিপক্ষের হাতঘড়ি মার্কার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশ নেওয়ায় তিনি নিজে এবং তার অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী দ্বারা অবৈধ অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গুম ও হত্যার হুমকি প্রদান করে যাচ্ছেন।’

ওই লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, জাফর আলম তার উচ্ছৃঙ্খল কর্মী বাহিনী দ্বারা হাত ঘড়ি প্রতীকের নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন লাগাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। যা বাংলাদেশের মহান সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ ধরনের হুমকি প্রদর্শন, চাপ প্রয়োগ এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিড়ে ফেলা ও লাগাতে বাধা দেওয়ার মতো অপতৎপরতা একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায় এবং আমরা জনপ্রতিনিধিরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এমন ভীতিকর পরিস্থিতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনের সংশয় দূর করতে কক্সবাজার-১ আসনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা বিধান ও হয়রানি রোধে উল্লেখিত অভিযোগ যাচাই সাপেক্ষে পরবর্তী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য আবু তৈয়ব, পেকুয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু, মগনামার চেয়ারম্যান মো. ইউনুস, বিএমচরের এসএম জাহাঙ্গীর আলম, রাজাখালীর নজরুল ইসলাম বাবুল, বদরখালীর নুরে হোছাইন আরিফ, লক্ষ্যারচরের আওরাঙ্গজেব বুলেট, কাকারার শাহাব উদ্দিন, বমু বিলছড়ি মনজুরুল কাদের, ঢেমুশিয়ার মঈনুদ্দিন চৌধুরী, উজানটিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, চিরিংগার সাবেক চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
জাল ভোট হলে কেন্দ্রের কারও চাকরি থাকবে না: ইসি আহসান হাবিব