ফেনীর ছাগলনাইয়ায় হোসনে আরা নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। অভিযোগ আছে, গ্রামীণ ব্যাংকসহ একাধিক এনজিও কর্মীদের চাপ সইতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
এমনকি, টাকা আদায়ে হোসনে আরার বাড়ির নারীদের তুলে নেয়ার হুমকিও দেয় এনজিও কর্মীরা। আর স্বজনদের অভিযোগ, তাকে জামানত রেখে আরেক নারী ঋণ নেয়ার পর হোসনে আরা সেই টাকা চাইতে গেলে, বিষ প্রয়োগে তাকে হত্যা করা হয়।
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার উত্তর সতর গ্রামের হোসনে আরার স্বামী ও দুই ছেলে থাকেন সৌদি আরব। দুই পুত্রবধূ নিয়ে বাড়িতেই থাকতেন তিনি।
হোসনে আরার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে গ্রামীণ ব্যাংকসহ ১৫টি এনজিও থেকে ৪০ লাখ টাকা ঋণ নেন প্রতিবেশী নাছিমা আক্তার। কিন্তু ১৩ লাখ টাকা পরিশোধের পর আর কিস্তি না দিয়ে সটকে পড়েন তিনি। এরপর থেকে টাকার জন্য হোসনে আরাকে চাপ দিতে থাকেন এনজিওকর্মীরা। এমনকি তার বাড়ি থেকে নারীদের তুলে নেয়ারও হুমকি দেন।
হোসনে আরার স্বজনরা জানান, চাপ সইতে না পেরে গত ২৫শে মার্চ নাছিমার বাড়িতে যান হোসনে আরা। এরপর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেদিনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে ছয়দিন পর তিনি মারা যান। হোসনে আরাকে কোনোভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মহামায়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির আহাম্মদ জানান, হোসনে আরার মতই এনজিওর ঋণের জালে আটকা পড়েছেন উত্তর সতর গ্রামের অনেক নারী।
এদিকে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী জানান, ভিসেরা রিপোর্ট ছাড়া হোসনে আরার মৃত্যুর কারণ বলতে পারবেন না চিকিৎসকরা। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে এলে অভিযোগের সত্যতা জানা যাবে।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম জানান, হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, হোসনে আরার মৃত্যুর খবরে গা-ঢাকা দিয়েছেন এনজিও কর্মীরা। গ্রামীণ ব্যাংকের মহামায়া ইউনিয়ন শাখা অফিস খোলা থাকলেও সেখানে পিয়ন ছাড়া কোন কর্মকর্তা নেই, ফোনও বন্ধ রেখেছেন তারা।
নীলফামারীতে ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যে ব্যাংক ও এনজিও’র ঋণ