ভরাট-দখল-দূষণে ছোট হয়ে আসছে দেশের বন্দরশহর চট্টগ্রামের প্রধান নদী কর্ণফুলী। প্রতিদিন কলকারখানা ও ৬০ লক্ষ নগরবাসীর ব্যবহার্য অপরিশোধিত তরল এবং অপচনশীল পলিথিন বর্জ্যের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে নদীর প্রাণবৈচিত্র্য।
নদীর প্রাণপ্রবাহ রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি পলিথিনবর্জ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই- বলছেন পরিবেশকর্মীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বুকে এখানে-ওখানে ভাসছে পলিথিনবর্জ্য। তীরেও একই চিত্র, মানুষের ব্যবহার করা পলিথিনের স্তূপ। খালের মুখে মাটি সরাতে গিয়ে পলিথিনে বারবার আটকে যাচ্ছে ড্রেজারের পাখা।
শুধু পলিথিনই নয়, প্রতিদিন চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে সরাসরি মিশছে ৬০ লক্ষ নগরবাসী এবং ৩৫০ এর বেশি কলকারখানার বর্জ্য। আর এতে প্রাণপ্রবাহ হারাচ্ছে কর্ণফুলী। বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ নদীর জীব-বৈচিত্র্য।
দূষণের পাশাপাশি অবৈধ দখল-ভরাটেও ছোট হয়ে যাচ্ছে কর্ণফুলী। ২০১৪ সালেও শাহ আমানত সেতু এলাকা ও চাক্তাই খালের মুখে কর্ণফুলীর প্রস্থ ছিলো প্রায় ৯শ’ মিটার। এখন নদীর প্রস্থ দাঁড়িয়েছে ৪৩০ থেকে ৫১০ মিটারে।
কর্ণফুলী সাম্পান-মাঝি ফেডারেশনের সভাপতি মো. পেয়ার আলী বলেন, আইন কেউ মানছে না।
দূষণ কমাতে কলকারখানার তরলবর্জ্য পরিশোধনে বাধ্যতামূলক ‘ইটিপি’ এবং ওয়াসার সুয়ারেজ সিস্টেম চালুর দাবি পরিবেশকর্মীদের।
চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীয়ুর রহমান জানান, আড়াই থেকে ৩০০ কারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
কর্ণফুলী নদী দখল-দূষণ মুক্ত করতে অভিযানের পাশাপাশি সব খালের মুখে ‘নেট’ বসানোর কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, এককভাবে প্রশাসনের পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। নদী রক্ষায় সবার এগিয়ে আসতে হবে।
কর্ণফুলী রক্ষায় তীর ঘেঁষে থাকা ছোট-বড় ৮০০ শিল্প কারখানায় নিয়মিত মনিটরিং এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযানের বিকল্প নেই- অভিমত পরিবেশকর্মীদের।
তথ্য চাইলে দিতে বাধ্য: তথ্য প্রতিমন্ত্রী