রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম তিনটি গ্রামে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে শতাধিক মানুষ। একাত্তর টেলিভিশনের পোর্টালে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হওয়ার পর দুর্গম সেই এলাকায় ছয় সদস্যের মেডিক্যাল টিম পাঠিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
তবে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদারের সই করা পত্রে দেখা যায়, সাজেকের আক্রান্ত এলাকায় মেডিক্যাল টিমের বদলে তদন্ত টিম পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সোমবার অর্থাৎ একদিনের এর মধ্যে ঘটনাস্থলে গিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
তবে যে দুর্গম তিনটি গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে নেই কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, তাদের যেতে হবে পায়ে হেঁটে। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে একদিনে পৌঁছানোই সম্ভব নয়, সেখান থেকে একদিনের ভেতরে প্রতিবেদন তারা কীভাবে দেবেন। আর জরুরিভাবে মেডিক্যাল টিম পাঠানোর দাবি জানানো হয়েছিল, তদন্ত কমিটি নয়। তদন্ত কমিটির সেখানে গিয়ে কাজ কি?
এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. তাপস কান্তি বলেন, ওই টিম এখনও ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছাতে পারেনি। তারা শিয়ালদাহ গ্রামের কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
আর তদন্ত টিমের ব্যাপারে তিনি বলেন, তদন্ত টিম লেখা হলেও ছয় জনের ওই টিমে চিকিৎসকও রয়েছেন। তারাই মূলত মেডিক্যাল টিম। তারা সঙ্গে ওষুধ, পানি বিশুদ্ধ করার ট্যাবলেট ও স্যালাইন নিয়ে গেছেন।
এদিকে সাজেকের দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য সেবা দিতে রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগ ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার শর্তে হরিণ জয় ত্রিপুরা এবং তার স্ত্রী বিনী ত্রিপুরাকে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ দেয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ঠিক মতো সেবা দিচ্ছেন না।
অপরদিকে আক্রান্ত এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫৪-বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের সদস্যরা মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে ওষুধ বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে ‘সাজেকে ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত শতাধিক, মেডিক্যাল টিম জরুরি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে একাত্তর।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, সাজেক ইউনিয়নের অরুণ পাড়া, তারুম পাড়া ও নিউথাংনাং পাড়ায় শতাধিক মানুষ ডায়ারিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত। সময় মতো চিকিৎসা না পেলে মানুষগুলোর অবস্থা গুরুতর হতে পারে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওই সংবাদে বলা হয়, গত এক সপ্তাহ ধরে এসব এলাকার শতাধিক মানুষ জ্বর, কাশি, রক্তবমি ও ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে পড়েছে। আশেপাশে কোথাও কমিউনিটি ক্লিনিক বা কোনো চিকিৎসা কেন্দ্র নেই। এদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পৌঁছাতে পারছেনা মেডিক্যাল টিম, পাঠানো যাচ্ছে না চিকিৎসা সরঞ্জাম।
২০১৬ ও ২০২০ সালে সাজেকের এসব গ্রামে ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুসহ ১৫ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছিল।
সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর