বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কুমিল্লার বানভাসি মানুষ। গোমতী নদীর বাঁধ ভাঙনে পানির স্রোত যেসব এলাকা দিয়ে গেছে সেসব এলাকায় ঘরবাড়িসহ স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
বন্যায় কারও কারও বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে আবার কারও ঘর থাকলেও তাতে বসবাসের পরিবেশ নেই। বেশিরভাগ বাড়ির আসবাবপত্র-তৈজসপত্র পানিতে ডুবে, পলি মাটির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
এছাড়া নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে, আয় রোজগার বন্ধ হয়ে নিঃস্ব, দিশেহারা। নতুন করে ঘরবাড়ি বানানো কিংবা আসবাবপত্র কেনা সামর্থ্য নেই বেশিরভাগ পরিবারের।

ঘরহারা মানুষেরা বলছেন,যে আয় রোজগার হয় তা দিয়ে নতুন ঘর করতে অনেক সময় লেগে যাবে। ততদিন তারা কোথায় থাকবেন তা নিয়ে তারা চিন্তিত। এ অবস্থায় সরকার ও প্রশাসনের কাছে তারা সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
বন্যায় মাটির ঘরগুলো পানির স্রোতে ভেসে গেছে। ঘরহারা হয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছেন এসব পরিবার।
কুমিল্লায় সাম্প্রতিক বন্যায় একেবারে বিধ্বস্ত হয়েছে আট হাজার ৬৭৪টি ঘর। এসব ঘর মেরামত করেও থাকা যাবে না। নতুন করে ভিটা তৈরি করে ঘর বানানো ছাড়া এসব বিধ্বস্ত ঘরের বাসিন্দা থাকার কোনো উপায় নেই।
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৮১টি ঘর। এসব ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের বাসিন্দারাও নিম্ন আয়ের মানুষ।

বন্যায় সড়কগুলোরও দশা বেহাল। স্রোতের ধাক্কায় ভেঙে গেছে গ্রামীণ সংযোগ সড়ক, বিলীন হয়েছে কৃষি জমি, ভেসে গেছে হাঁস-মুরগি, গবাদি পশুর খামার ও মাছের ঘের।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের তথ্য মতে, কুমিল্লার ১৪ উপজেলায় বন্যায় ৩২ হাজার ৬২ কোটি ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩৮ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে সকলকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবারের বন্যায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আবাসিক খাতে, যা এক হাজার কোটি টাকারও বেশি।
গোমতি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া এলাকায় ৫৫৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর রয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৪৩টি মাটির ও টিনের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে।
গাজী টায়ারসে আবারও আগুন-লুট, হাতেনাতে আটক ১০