ক্যালেন্ডারের পাতায় ঈদ ঘনিয়ে এলেও লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে উৎসবের কোনো চিহ্ন নেই। জাটকা সংরক্ষণে নদীতে মাছ ধরায় দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলায় আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ। ঘরে খাবার জোটানোই যেখানে দায়, সেখানে ঈদের নতুন কাপড় বা সেমাই-চিনির আয়োজন এখন জেলেদের কাছে বিলাসিতা। সরকারিভাবে ভিজিএফের চাল দেওয়া হলেও জেলেদের প্রশ্ন—শুধু চাল দিয়ে কি ঈদ চলে?

সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মেঘনা নদীর তীরে সারি সারি মাছ ধরার নৌকা অলস পড়ে আছে। এসব নৌকাই অনেক পরিবারের একমাত্র ঠিকানা। এক মার্চ থেকে শুরু হওয়া ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাসের এই নিষেধাজ্ঞায় উপকূলীয় চার উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে পরিবার এখন কর্মহীন।
স্থানীয় জেলে মিনারা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে নদীতে মাছ ধরতাম। এখন আয়-রোজগার সব বন্ধ। ঘরে খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে গেছে, বাচ্চাদের নতুন কাপড় দিমু কই থেকে?
জেলেপল্লীর বাসিন্দা ছালেহা বলেন, নিজেরা ঠিকমতো খাইতে পারি না, আবার কিসের ঈদ। ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছুই কিনতে পারিনি। একই সুর শোনা গেল বৃদ্ধ এক জেলের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, নদীতে যাইতে পারি না, তাই আয়ও নাই। ঈদ আইছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের ঘরে কোনো উৎসব নাই।
এমনকি শিশুদের মনেও এবার ঈদের আনন্দ নেই। এক শিশু মলিন মুখে জানায়, তার বাবার কাছে টাকা নেই বলে এবার কোনো নতুন জামা কেনা হয়নি।

জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। এই সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
তবে জেলেদের দাবি, শুধু চাল দিয়ে তো আর সংসার চলে না। তেল, ডাল, নুনসহ নিত্যপণ্যের যে দাম, তাতে এই সামান্য সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে ঈদের এই সময়ে সেমাই, চিনি বা শিশুদের জামাকাপড় কেনার মতো কোনো নগদ অর্থ তাদের হাতে নেই।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার চাল দিচ্ছে। যারা এখনও পাননি, তারা পর্যায়ক্রমে পাবেন।
তবে মৎস্যজীবীদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে সরকারি সহায়তার পরিধি ও পরিমাণ বাড়ানো হলে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তিতে ঈদ কাটাতে পারতো।
