লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও দেশীয় অস্ত্রের হামলায় বিএনপি নেতাসহ চারজন আহত হয়েছেন। ‘এক লাখ টাকার বিনিময়ে’ চুক্তিতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে আটকের পর স্থানীয় জনতার কাছে স্বীকার করেছেন এক হামলাকারী। এ ঘটনায় ভোলার বাসিন্দা সুজন নামের ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার দুই নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বাজারজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি নেতা এবাদুল্লাহ গাজীসহ চারজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, রাতে খাসেরহাট বাজারে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই বাজারে উপস্থিত লোকজনের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাত শুরু হয়। এ সময় বাজারজুড়ে ছোটাছুটি শুরু হলে স্থানীয় লোকজন সাহসিকতার সঙ্গে ধাওয়া করে সুজন নামের এক হামলাকারীকে আটক করেন এবং মারধর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সুজন স্বীকার করেন যে তিনি এক লাখ টাকার চুক্তিতে এ হামলা চালাতে এসেছেন। উপস্থিত অনেকেই তার এই স্বীকারোক্তির ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন। তবে কোন গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্ররোচনায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ নিজাম উদ্দিন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক সুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা যুক্ত রয়েছে তা খুঁজে বের করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
