রাজধানীর পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় ৭ ডিসেম্বর নতুন তারিখ ঠিক করেছে আদালত। এ নিয়ে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ বার সময় দেয়া হলো।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই নতুন তারিখ ঠিক করেন। আদালত পুলিশের পল্টন থানার নিবন্ধন কার্যালয়ের এএসআই মামুন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা সিআইডি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত সময় বাড়িয়ে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে, ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের বর্তমান আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের। নারাজি আবেদনে তিনি দাবি করেন, ডিবি তাদের তদন্তে হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্যও উদ্ঘাটিত হয়নি। বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সিআইডিকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ জানুয়ারি মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছিলেন।
মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন এবং প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ ৬ জন এখনও পলাতক।
তবে সিআইডি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে রুবেল নামের এক আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া হাদিকে হত্যার অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হক হেলালও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১৩ জন আসামি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন, ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে মারাত্মক আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
ঘটনার দুদিন পর, ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
