পদ্মার ঘোলা জলে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। এবার ধরা পড়লো সাত কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় ঢাঁই মাছ। সোমবার সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মজলিশপুর এলাকায় মাছটি ধরা পড়ে।
ঢাঁই (শিলং) মাছ দেখতে পাঙাশের মতোই প্রায়। রুপালি রঙের আঁশবিহীন মাছটির ওজন এক-দুই কেজি হয়। বর্ষা মৌসুমে জালে মাঝেমধ্যে দু-একটি ঢাঁই মাছ ধরা পড়ে।
স্থানীয় জেলে হজরত মণ্ডলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে প্রায় আট কিলোমিটার উজানে মজলিশপুর এলাকায় মাছটি পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানায়, ভোরে জাল নিয়ে নদীতে মাছ শিকারে বের হন বাহিরচর দৌলতদিয়া চাঁদখানপাড়ার জেলে হজরত মণ্ডল। বাহিরচর থেকে জাল ফেলে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে উজানচরের চর করনেশনা-মজলিশপুর এলাকায় জাল নৌকায় তুলে তিনি দেখতে পান বড় একটি ঢাঁই মাছ। সঙ্গে ওঠে দুইটি ইলিশও।
হজরত মণ্ডল জানান, বিক্রির জন্য মাছটি দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে দুলাল মণ্ডলের আড়তে আনলে তা নিলামে তোলা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ মাছগুলো কেনেন।
শাহজাহান শেখ জানান, পদ্মা নদীতে বছরে দুই–একটি বড় ঢাঁই মাছ ধরা পড়ে। এ মৌসুমে এত বড় ঢাঁই এই প্রথম পাওয়া গেল। ৩ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে ২২ হাজার ৭০০ টাকায় মাছটি কিনে তার ফেরিঘাট আড়তে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গোয়ালন্দ উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজবাড়ী সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোস্তফা আল রাজীব জানান, ঢাঁই বা শিলং হচ্ছে ক্যাটফিশ জাতীয় সুস্বাদু ও খরস্রোতা নদীর আঁশবিহীন রুপালি রঙের মাছ এবং এর পাখনাগুলো লাল রঙের হয়। লম্বায় সাধারণত ১৮৩ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ৩-১০ কেজি পর্যন্ত হয়।
তিনি আরও জানান, রুপালি রঙের অন্য ক্যাটফিশের তুলনায় এই মাছ ডিম কম দেয়। বর্ষায় প্রাপ্তবয়স্ক মাছ প্রজননের জন্য ছোট নদী থেকে বড় নদীতে আসে। ঢাঁই বেশ দুষ্প্রাপ্য ও দামি মাছ বলেও জানান তিনি।
মোংলায় নিখোঁজের ২৯ ঘণ্টা পর জেলের মরদেহ উদ্ধার