গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সব সম্পত্তি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বয়োবৃদ্ধ বাবা হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনার পর অবশেষে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তাঁর নির্দেশে বৃদ্ধের বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে নিজের ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন তাঁর সন্তানরা।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র চেয়ারম্যান ও 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মানবিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনার পরপরই বৃহস্পতিবার 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে হাজী শামসুল হক মোল্লার বাড়িতে যান। সেখানে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৃদ্ধের শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী ও সমবেদনার বার্তা পৌঁছে দেন।
সাক্ষাৎকালে 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লার নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সরেজমিনে এসে জানতে পেরেছি, তাঁর ছেলেরা ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে পুনরায় সসম্মানে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং আমৃত্যু তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন। এই পুরো বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করব।”

প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমদ, শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মহান ও আবদুল্লাহ আল মিসবাহ সহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লা জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে কষ্টার্জিত অর্থ ও শ্রমে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে মানুষ করেছিলেন। সম্প্রতি নিজের সমুদয় জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর তিনি সন্তানদের কাছেই অবহেলিত ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ছেলেরা ও তাঁদের পরিবার বৃদ্ধ বাবাকে বসতবাড়ি থেকে বের করে দিলে বাড়ির পাশের একটি গাছতলায় মানবেতর আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি।
গণমাধ্যমে এই অমানবিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আসে। সরকারের তাৎক্ষণিক মানবিক উদ্যোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপে শেষ পর্যন্ত এই অসহায় পিতা তাঁর প্রাপ্য সম্মান ও আশ্রয় ফিরে পেলেন।
