আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়ানো, আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়া, আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ও জনতার সঙ্গে তুলকালাম কাণ্ড, এসবের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম অশালীন ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করে নতুন করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। আইনি লড়াইয়ের স্বস্তি পাওয়ার দিনেই নিজের উগ্র আচরণ ও ভাষা দিয়ে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন এই গ্ল্যামারাস তারকা।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পান পরীমনি। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর ও ভাঙচুরের মামলায় আগের দিন হাজিরা দিতে না পারায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। পরদিনই তড়িঘড়ি করে আইনি ঝক্কি কাটালেও আদালতের চত্বরে ঘটে যায় তুলকালাম কাণ্ড।

আদালতের কার্যক্রম শেষ করে বের হওয়ার সময় উৎসুক জনতার ভিড়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরা হয় পরীমনিকে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে কেউ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ বা অযাচিত স্পর্শ করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মুহূর্তেই সেখানে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন এক সাংবাদিকের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে পরীমনির সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরাও (বডিগার্ড) সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হন বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও আদালত প্রাঙ্গণ রূপ নেয় এক রণক্ষেত্রে।
আদালতের এই ধাক্কা ও উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিস্ফোরক কাণ্ড ঘটান পরীমনি। আদালতের জামিন পাওয়ার ঠিক পরপরই মাত্র ‘দুটি শব্দ’ ব্যবহার করে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি, যার ভাষা ছিল চরম আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক। যদিও সরাসরি সুনির্দিষ্ট করে কাউকে উদ্দেশ করে তিনি এই মন্তব্য করেননি, তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও সমালোচকদের লক্ষ্য করেই যে তাঁর এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তা বুঝতে বাকি থাকেনি নেটিজেনদের।

পোস্টটি শেয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১২ হাজার লাইক পড়ে ওই পোস্টে। তবে, অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য এড়াতে পোস্টটিতে কমেন্ট করার সুযোগ বন্ধ রেখেছিলেন এই নায়িকা।
একজন জনপ্রিয় তারকার কাছ থেকে এমন লাগামহীন ও অশালীন ভাষার ব্যবহার কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নেটিজেন ও সচেতন মহল। তাঁদের মতে, ব্যক্তিগত চাপ বা আইনি ঝামেলা থাকতেই পারে, কিন্তু একজন ‘পাবলিক ফিগার’-এর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও আচরণের সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, পরীমনির অন্ধভক্ত ও অনুসারীদের একটি অংশ এই আচরণকে তাঁর ‘স্বভাবসুলভ স্পষ্টবাদিতা’ এবং দীর্ঘ মানসিক চাপের আকস্মিক বিস্ফোরণ বলে সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে সমর্থন-সমালোচনার এই দোলাচলে আইনি লড়াইয়ের বাইরে পরীমনির বেপরোয়া বাচনভঙ্গি ও প্রকাশ্য আচরণ যে বারবার বিনোদন জগতের সবচেয়ে আলোচিত টপিকে পরিণত হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
