তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িরবহরে হামলার ঘটনায় মামলায় সাজা পাওয়া এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার গভীর রাতে যশোর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন শানতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তার নাম ইয়াছিন আলী (৫৭)। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তুলশীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন জানান, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার কলারোয়া থানা এলাকায় পৌঁছালে তার গাড়ির বহরে আগ্নেয়াস্ত্র, হাত বোমাসহ হামলা করা হয়। ওই ঘটনায় কলারোয়া থানায় আলাদা তিনটি মামলা হয়।
মামলাগুলোর বিচার কাজ শেষে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল সাতক্ষীরার স্পেশাল ট্রাইবুনাল-৩ এর বিচারক জড়িত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। তিন মামলার মধ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলার ৪৮ জন আসামির মধ্যে ইয়াছিন আলীসহ মোট ৪৪ জনকে সাত বছর মেয়াদে সাজা দেয় আদালত। গ্রেপ্তার ইয়াছিন আলী ওই হামলার পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের মধ্যে অন্যতম।
তিনি জানান, রায়ের পর থেকে ইয়াছিন আলী দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। র্যাব গোয়েন্দা তথ্যে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে করে।
জিজ্ঞাসাবাদে র্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার এড়াতে ইয়াসিন সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিলো। দুইটি রিকশা কিনে তা ভাড়া দিয়ে জীবিকা চালিয়ে আসছিল।
তিনি আরও জানান, ইয়াছিনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক, হত্যা চেষ্টা ও মাদক আইনে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে যান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে যশোরে ফেরার পথে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার ওপরে আড় করে দিয়ে তার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। পাশাপাশি করা হয় গুলিও।
এ ঘটনায় শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা সেদিন আহত হন।
ওই ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন কলারোয়া থানায় মামলা করতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তখন সাতক্ষীরার আদালতে নালিশি অভিযোগ করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেয়।
ওই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়।
তদন্ত করে পুলিশ বিএনপির সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনের পৃথক ধারায় দেওয়া তিনটি অভিযোগপত্রের মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় হয় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
তাতে তালা-কলারোয়ার বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জন নেতাকর্মীকে চার থেকে ১০ বছর মেয়াদে সাজা দেন সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম হুমায়ুন কবির।
আর অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় গত বছরের ১৪ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। এর চারদিন পর ১৭ জুন বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
বাঁচানো গেলো না সোনিয়াকে, বিদ্যুতস্পৃষ্টে শেষ পুরো পরিবার