কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৭তম জামাত। সকাল ১০টায় শুরু হবে এ জামাত।
এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হচ্ছে সব আয়োজন।
শোলাকিয়ার ঈদগাহের যাত্রা শুরু হয় ১৭৫০ সালে। আর এখন এখানেই অনুষ্ঠিত হয় দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত।
১৯৭ তম জামাতকে ঘিরে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। মাঠের লাইন টানা, ওজুখানা নির্মাণ, রং করা, সাজসজ্জাসহ সব কাজ শেষে মাঠ এখন জামাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

স্থানীয়রা জানালেন, তারা ছোটবেলা থেকেই এ মাঠে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম দেখছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গাসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে ঈদের নামাজ পড়তে আসেন বলে জানালেন তারা।
প্রায় সাত একর আয়তনের ঈদগাহের মূল মাঠে নামাজে প্রায় ২৫০টি কাতার থাকবে। প্রতিটি কাতারে ৬০০-৭০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করার সুযোগ পান।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ জানান, যেসব পথে শোলাকিয়ার ঈদের জামাতে মুসল্লিরা আসবেন, সেসব পথও সংস্কার করা হয়েছে। ঈদগাহ মাঠের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করে ঈদের জামাতের জন্য তা পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।

এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পুলিশ, র্যাব ও এপিবিএনের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে বিজিবি। কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ জানান, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সে লক্ষ্যে তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ময়মনসিংহ র্যাব-১৪’র অধিনায়ক মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, সকাল থেকেই সিসিটিভি ও ড্রোনের মাধ্যমে পুরো ঈদগাহ ময়দানে নিরাপত্তা নজরদারি জারি রাখবে র্যাব।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদের জামাতে শুধু জায়নামাজ নিয়ে মাঠে প্রবেশের অনুরোধ জানান মুসল্লিদের।

জেলা প্রশাসক জানান, সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সম্মানিত মুসল্লিগণ যেন শুধুমাত্র টুপি ও জায়নামাজ নিয়ে ঈদগাহ মাঠে আসেন। অন্য কোনকিছু সাথে নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ না করতে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এবারও মুসল্লিদের নিয়ে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুইটি বিশেষ ট্রেন শোলাকিয়ায় আসবে ঈদের দিন। আর সকাল দশটায় অনুষ্ঠিতব্য ঈদের জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।
ঈদযাত্রায় চিরচেনা রূপে ট্রেন, ইঞ্জিন ও ছাদে যাত্রীবোঝাই