নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পঞ্চম দিনেও থামেনি উদ্ধার অভিযান। এবার ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় আটকে থাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে পৌঁছাতে ড্রিলিং শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এসব সুড়ঙ্গে শতাধিক কর্মী আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকস্মিক পানির স্রোত ও কাদার ঢলে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ার পর অনেক কর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

রোববার উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর পাশাপাশি বিকল্প পথে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। আটকে থাকা কর্মীদের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে বিশেষ ড্রিলিং সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, রাস্তা ও সেতু ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়া। অনেক এলাকায় নতুন করে বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে উদ্ধারকর্মীদের সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালাতে হচ্ছে।

নেপালে ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে ও বিভিন্ন স্থাপনায় আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
তবে উদ্ধারকর্মীদের আশা, সুড়ঙ্গে আটকে থাকা কর্মীদের অনেকেই এখনও জীবিত থাকতে পারেন। তাই সময় যত গড়াচ্ছে, ততই দ্রুততার সঙ্গে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পঞ্চম দিনেও চলছে এই মরিয়া উদ্ধার অভিযান—একদিকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ, অন্যদিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা কর্মীদের জীবিত উদ্ধারের লড়াই।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই হাজার ৪৯৮ জন।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে দুই অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা ৭৫০ এবং নিখোঁজ তিন হাজার ৪৪ জন।
নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি
শত শত কিলোমিটার দূরে পাওয়া যাচ্ছে মরদেহ