চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক নারীকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার অপতৎপরতা ভণ্ডুল করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এই পুশইন চেষ্টায় সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বিএসএফের এই অবৈধ অনুপ্রবেশের কার্যক্রমে অর্থের বিনিময়ে বা দালালি করে সহায়তা করছিলো স্বয়ং একদল বাংলাদেশি।
সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে বিজিবির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি বিএসএফের সহযোগিতাকারী সাত বাংলাদেশি দালালকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে বিজিবি তাদের গোমস্তাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের বাবুল আক্তার, এমদাদুল হক, রয়েল, আজম, আলম, আসমাউল ও মেজবাউল।
বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ২২৫/৩-আর নম্বর সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে এই পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন বেসামরিক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি টহল দলের দ্রুত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে পুশইন প্রতিহত করা হয় এবং অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ওই সাত বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে রোকনপুর সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত ১৩ জুন ভোররাতে একই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। বিজিবি সদস্যদের তীব্র আপত্তিতে সেবারও তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নুরে আলম বলেন, বিএসএফের পুশইন কার্যক্রমে সহায়তা করার অভিযোগে সাত বাংলাদেশিকে বিজিবি আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। সোমবার রাতেই তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা দায়েরসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
