বহু কাঠখড় পুড়িয়ে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর অবশেষে ভোটের মাঠ ছাড়লেন রাজশাহী-১ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান আক্তার।
তবে নির্বাচন থেকে সরলেও ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না তিনি। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানীকে সমর্থন দিয়ে তার কাঁচি মার্কার পক্ষে ভোট করার ঘোষণা দিয়েছেন আক্তার।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় কাঁচি মার্কার রাব্বানীও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আক্তার বলেন, রাব্বানী ভাই ও আমার আদর্শ-উদ্দ্যেশ্য এক। এ কারণে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে তার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ৭ তারিখে ভোট দিয়ে গোলাম রাব্বানীকে জয়যুক্ত করবো।’
গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১১জন। এদের মধ্যে পাঁচজন হেভিওয়েট হলেও বাকিরা ভোটের মাঠে নতুন মুখ।
রাজশাহী-১ এ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি গত তিনবারের টানা সংসদ সদস্য। এখানেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে ভোট করছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহি।
ভোট থেকে সরে যাওয়া আক্তারের প্রার্থী হতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর নির্বাচন কমিশন ও উচ্চ আদালতে গিয়েও ব্যর্থ হন আক্তার। অবশেষে আপিল বিভাগে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন তিনি।
বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুককে হারানোর লক্ষ্যেই এই আসনে চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট দাঁড়ান। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ওমর ফারুকের হারানোর কাজটা সহজ না হওয়ায় এখন তারা জোট বাঁধছেন বলে প্রার্থীরা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আখতারুজ্জামান আক্তার বলেন, ওমর ফারুকমুক্ত গোদাগাড়ী চাইলে সব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে একসাথে গোলাম রাব্বানী ভাইকে সমর্থন দিয়ে কাজ করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন, আক্তার ভাইয়ের কাছ থেকে থেকে সুযোগ চেয়েছি। তিনি আমাকে সমর্থন ও সম্মান দিয়েছেন। ৭ তারিখে আমাদের জয় হবে ইনশাআল্লাহ।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তার জাহান ডালিয়াকেও নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান কাঁচি মার্কার রাব্বানী।
তিনি বলেন, আমাকে সমর্থন দিয়ে পক্ষে কাজ করার জন্য তাকেও (ডালিয়া) অনুরোধ করেছি। আশা করছি, উনিও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে আমাকে সমর্থন দেবেন।
ভোট থেকে সরে যাওয়া আখতারুজ্জামান আক্তার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। তিনি ছিলেন গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান।
সবশেষ গত বছর জেলা পরিষদ নির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে লড়ে পরাজিত হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকার মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন।
কাঁচি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম রাব্বানী তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। মুন্ডমালার পৌরসভার মেয়রও ছিলেন এই প্রার্থী।
রাজশাহী-১ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় পার্টির শামসুদ্দিন মন্ডল, এনপিপির নুরুন্নেসা, বিএনএমের প্রার্থী শামসুজ্জোহা বাবু, তৃণমূল বিএনপির জামাল খান দুদু, বিএনএফের আল-সাআদ ও মুক্তিজোটের বশির আহমেদ।
নৌকার প্রচারে জনপ্রিয় যতো গান
গুপ্তহত্যার চক্রান্তে বিএনপি, সতর্ক থাকুন: কাদের