শেষবারের মতো পৈত্রিক ভিটা থেকে বন্ধু, আত্নীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খিদের চোখে জলে বিদায় নিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষাসৈনিক, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের চিফ প্রসিকিউটর, একুশে পদক পাওয়া আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপু।
শনিবার সকাল আটটায় তার নিজ গ্রাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি বাজারের ঈদগাহ ময়দানে গার্ড অব অনার শেষে জানাজা পড়ানো হয়।
এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে পরিবারের পক্ষে তার মেয়ে, স্বজন ও বন্ধুরা স্মৃতিচারন করে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
শেষে টিপুর মরদেহ লাশবাহী গাড়িতে করে রাজশাহী কলেজ চত্বরে চতুর্থ জানাজার জন্য রওনা করেন স্বজনরা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
ভাষাসৈনিক ও একুশে পদক পাওয়া প্রখ্যাত আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গোলাম আরিফ টিপুর জন্ম ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামে। ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। একই কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা আন্দোলন কর্মী ছিলেন। ১৯৫২ সালে রাজশাহীতে বাংলা ভাষা আন্দোলন মূলত তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়। তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। ১৯৫৪ সালে ছাত্র ইউনিয়নের দ্বিতীয় সম্মলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন টিপু। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনে তার ছিল অনবদ্য ভূমিকা। হয়েছিলেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহবায়ক।
নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না গৃহবধূর