চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও তেহরান-ওয়াশিংটন সংঘাত মেটাতে পাকিস্তান ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের মধ্যে এক অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পূর্বের একটি সমঝোতা স্মারক পুনর্বহাল করে একটি স্থায়ী শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলো।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক যৌথ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। সামাজিক ধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক বার্তায় নকভি এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা প্রশমন এবং অতীতে স্বাক্ষরিত 'ইসলামাবাদ স্মারক' কীভাবে পুনরায় কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
নকভি উল্লেখ করেন, বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট খোলামেলাভাবে তাঁর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্বেগ ও মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং বৈঠকটি ইতিবাচক নোটে শেষ হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনার গতি ভবিষ্যতে আরও বড় অগ্রগতির পথ প্রসারিত করবে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন যে তেহরানের আর্থিক শক্তি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মিত্র দেশগুলোকেও এই পদক্ষেপ অনুসরণের জন্য তাগিদ দিচ্ছেন।
একদিকে ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা-মেহর নিউজ
