সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের নামে লিখে দেওয়ায় স্বামী মাজেদ বিশ্বাসের দাফন আটকে দেন দ্বিতীয় স্ত্রী ও এলাকাবাসী। পরে মরদেহ বাড়ির উঠানে রেখে ডাকা হয় সালিস। তিন ঘণ্টার ওই সালিসের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পরে প্রথম পক্ষের দুই ছেলে ওই নারীকে সম্পত্তির হিসাবে বুঝিয়ে দিতে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে স্ট্যাম্পে লিখিত দেন। পরে মরদেহ দাফন করা হয়।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মরাপাগলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, মাজেদ বিশ্বাসের প্রথম স্ত্রীর ১০টি সন্তান ছিল। এর মধ্যে তিন জন মারা গেছেন। জীবিত সাত সন্তানের মধ্যে চার মেয়ে ও তিন ছেলে। প্রায় ২০ বছর আগে মাজেদ বিশ্বাসের প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে হামফুল বেগম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন তিনি এবং এই সংসারে কোনো ছেলে মেয়ে হয়নি। তিন ছেলের মধ্যে দুই জন লতিফুর রহমান ও আবদুল জাব্বার বর্তমানে পুলিশে চাকরি করেন। প্রায় ছয় মাস আগে মাজেদ বিশ্বাস অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হন। দুই ছেলে লতিফুর রহমান ও জাব্বার চিকিৎসার কথা বলে তার বাবাকে অন্য জায়গায় নিয়ে যান এবং সেখানে বাবার সম্পত্তি তাদের নামে লিখে নেন।
এরপর গত ১৬ এপ্রিল মাজেদ বিশ্বাসের তালাকনামা উকিল নোটিশের মাধ্যমে হামফুল বেগমের কাছে পাঠানো হয়। তবে হামফুল বেগম সেটি গ্রহণ না করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ দেন। আগামী পাঁচ মে গ্রাম্য সালিসের দিন নির্ধারণ হয়। কিন্তু গত রোববার (২৭ এপ্রিল) মাজেদ বিশ্বাস রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। লাশ দাফনের জন্য তার দুই ছেলে পিতার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নিয়ে এলে স্ত্রী হামফুল বেগম এলাকবাসীকে সঙ্গে নিয়ে দাফনে বাধা দেন। এ ঘটনায় সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে সালিসে বসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, মরদেহ ২৪ ঘণ্টা আটকে রেখে সকাল থেকে তিন ঘণ্টা ধরে সালিস হয়েছে। জমি লিখে নিয়ে সৎ মাকে ফাঁকি ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত করায় এ জটিলতা। এখন শেষ সমাধান হলো সব জমি আইন অনুযায়ী বণ্টন। কিন্তু এর মধ্যে বোন ও ভাবির সঙ্গে ঝগড়া হয়, তারা জানান সালিস মানবেন না। পরে বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হয় পুলিশে চাকুরিরত দুই ছেলে আইন মোতাবেক জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে সন্ধ্যায় লাশ দাফন হয়।
এদিকে গ্রাম্য সালিসে সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে বাড়িতে লাশ আনার ২৪ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে দাফন করা হয় বলে জানান সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, মানবিক কারণে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অধিকার বঞ্চিত নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে তার সৎ ছেলেরা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কিন্তু গ্রামবাসী ন্যায্য বিচারের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, সোমবার সকাল ও বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দুই দফা গ্রাম্য সালিসে বসেন তিনজন ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। শেষে অংশীদারদের মধ্যে সম্পত্তির বণ্টন হবে তা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত নেওয়া হয়। এরপর দাফন হয়। এই পুরো সময় লাশ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে ছিল।
এ বিষয়ে জানতে মাজেদ বিশ্বাসের ছেলে পুলিশের উপ পরিদর্শক লতিফুর রহমানের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। সালিসে মীমাংসা হয়ে লাশ দাফনের কথা জেনেছি।
পানি ও তেলে শিশুর ‘ফুঁ’ নিতে শেরপুরে হাজার হাজার মানুষের ঢল