বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতন আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিতে নিহত পঞ্চগড়ের শহীদ সুমন ইসলামের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্ত করতে দাফনের পাঁচ মাস পর কবর থেকে মরদেহটি তোলা হলো।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের আমিন নগর এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি তোলা হয়।
এসময় বোদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম ফুয়াদ, বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দীন,আশুলিয়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সিপেক্টর মো. মনিরুল ইসলামসহ শহীদ সুমনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত সুমন বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের বকশিগঞ্জ এলাকার হামিদ আলীর ছেলে। তিনি ঢাকার ইপিজেডে কাজ করতেন।
পরিবার জানায়, গত পাঁচ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে ঢাকার আশুলিয়া থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হয় সুমন। গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত আগস্ট মারা যায়। পরে পাঁচ সেপ্টেম্বর ৮৮ জনের নাম উল্লখ ও ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সুমনের মা কাজলী বেগম বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ডিসেম্বরে প্রসেস শেষে আদালত করব থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আজিম উদ্দীন জানান, মরদেহ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মামলায় এজাহার নামীয় বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার কাজ চলছে। এছাড়া তদন্ত চলমান রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছিলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কোনো শহীদের লাশ উত্তোলন করা যাবে না।
সেদিন সারজিস আলম বলেন, ‘১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের বিচারের জন্য যদি শেখ মুজিবুর রহমানের ডেথ বডি (মরদেহ) উত্তোলনের প্রয়োজন না হয়, তাহলে এই ২৪-এর অভ্যুত্থানে খুনি শেখ হাসিনার হুকুমে এই বাংলাদেশে যারা গণহত্যা ঘটিয়েছে, জীবন নিয়েছে, তাদের বিচারের জন্য কেন শহীদদের লাশ উত্তোলন করতে হবে। ২৪-এর অভ্যুত্থানে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, হত্যা মামলাগুলোর জন্য তাঁদের কারও লাশ উত্তোলন করা যাবে না। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আমাদের বিচারিক যে মন্ত্রণালয় রয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে একটি কথা বলে দিতে চাই, তারা জীবন দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছেন, যে ভাইয়ের জীবনের বিনিময়ে আপনি ওই চেয়ারে বসে আছেন। ক্ষতবিক্ষত বুক নিয়ে যে বাবা, মা, ভাই, বোন, সহধর্মিণী বেঁচে রয়েছেন, তাঁদের চোখের সামনে, তাদের ওই ক্ষতবিক্ষত কলিজার সামনে আপনারা কোনো দিন চার মাস পর তাঁদের লাশ উত্তোলন করতে পারেন না।’
