উজানের ঢলে রুদ্র মূর্তি ধারণ করা তিস্তা নদী শান্ত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে দ্রুত গতিতে পানি কমায় উন্নতি ঘটেছে নীলফামারীর বন্যা পরিস্থিতির। বাড়িঘর আর ফসলের ক্ষেত থেকে নেমে গেছে ঢলের পানি। স্বাভাবিক হচ্ছে বানভাসিদের জীবন।
বর্তমানে নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ।
উজানের ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে নীলফামারীতে বুধবার তৃতীয় দফায় বিপদসীমা ছাড়িয়ে বৃহস্পতিবার রুদ্র মূর্তি ধারণ করে তিস্তা নদী। এদিন নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আকস্মিক নদীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত হয় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে। তলিয়ে যায় ফসলের জমি। ফলে চরম বিপাকে পড়েন এসব নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কয়েক দফা নদীর পানি কমে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুর থেকে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচে নামলে উন্নতি ঘটে বন্যা পরিস্থিতির। দ্রুত গতিতে নদীর পানি কমায় বাড়িঘর আর ফসলের ক্ষেত থেকে নেমে গেছে ঢলের পানি। স্বাভাবিক হচ্ছে বানভাসিদের জীবন।
কৃষি অফিসের তথ্য মতে, তিস্তার আকস্মিক বানে ডিমলা উপজেলার কৃষকদের ২২০ হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত পানি ও পলিতে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন চারাসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে কৃষি বিভাগ।
ডিমলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, বর্তমানে নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
আর এই মুহূর্তে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের এই নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তার বন্যায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ হাজার ২০৯ পরিবারের মধ্যে ৩০ টন চাল, শুকনো খাবার বরাদ্দের পর বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
