গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সরোয়ারে আলম খান জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মিজানুর রহমান মিজান। তিনি পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সাবেক আমির।
পুলিশ ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বুধবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ একটি অভিযোগপত্র নিয়ে থানায় যান। সেখানে ওসির সঙ্গে আলাপকালে একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তদন্ত ছাড়াই তাৎক্ষণিক বন্ধ করার দাবি জানান তারা। ওসি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে জামায়াত নেতারা ওসির ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত অন্য পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ওসিসহ মোট ৯ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
এই হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে এই মামলায় তৌহিদুল ইসলাম কানন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। মিজানকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান বলেন, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের এখনও নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যদি দলীয় কোনো স্তরের কর্মী বা নেতা জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে দলটির পক্ষ থেকে হালনাগাদ কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি উপজেলা আমির জামায়াতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার জন্য এ ব্যাপারে তার আর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশদের মারধর, জামায়াত নেতাসহ ৯ জনের নামে মামলা