সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) রোববারের হামলার ঘটনায় তিনশ’ শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে এখনো নিজ বাসায় অবরুদ্ধ আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি।
এদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হলে তারা মাঠ ছাড়বেন না।
মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গোল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, গেলো রাতে তারা হলেই ছিলেন। কারণ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত তারা মানেন না।
প্রথমে তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামলেও এখন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন করছে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে তারা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সার্বিক বিষয় জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আচার্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে, শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও ভিসির সঙ্গে দেখা করতে বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের নেতৃত্বে দলটি কথা বলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সঙ্গে।
পরে চৌধুরী নাদেল সাংবাদিকদের জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সহজ সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে। শিগগিরই সেই পথের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান সমঝোতার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান । কিন্তু দাবি আদায় না হলে তারা মাঠ ছাড়বেন না।
আর, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হয়ে কথা বলেছেন সিন্ডিকেট সদস্য ড. তুলশী কুমার রায়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
এদিকে, অবরুদ্ধ উপাচার্যকে মুক্ত করতে গত রোববার পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিনশ’ শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান বাদি হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলাটি করেন। নিয়মরক্ষার জন্য এ মামলাটি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: এখনই বন্ধ হচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: দীপু মনি
এর আগে গত রোববার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও হল ছাড়ার নির্দেশনা উপেক্ষা করে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
