সোমবার রাতে কেনাকাটার সময় বাকবিতন্ডা থেকে রণাঙ্গনে পরিণত হয় রাজধানীর
নিউমার্কেট সংলগ্ন মীরপুর রোড।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বনাম নিউমার্কেট দোকান মালিক ও কর্মচারী আর তৃতীয় পক্ষ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ত্রিমুখী এই সংঘর্ষে আহত অর্ধশত মানুষ।
কিন্তু ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষের এমন ঘটনা নতুন নয়। ঢাকা কলেজের ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনা করলেই বোঝা যাবে কেন এমন সংঘর্ষ বারবার।
ঢাকা কলেজকে ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু মার্কেট। কলেজটির পাশেই অবস্থিত চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট এবং তার ঠিক পাশেই বিস্তৃত এলাকা জুড়ে নিউমার্কেট।
ঢাকা কলেজের ঠিক বিপরীতে গ্লোব শপিংমল। ঠিক তার পাশেই নূরজাহান মার্কেট আর ধানমন্ডি হকার্স। এর পাশেই গাউসিয়া মার্কেট ও চাঁদনী চক। আছে নীলক্ষেতের বিশাল বইয়ের মার্কেট।
ঢাকা কলেজের আরেক পাশে থাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ আর সাইন্স ল্যাবের সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথেও প্রায়শই সংঘর্ষের ঘটনা ওই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে নতুন কিছু নয়।
সবক্ষেত্রেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু, তারপর জল গড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। নিয়ণ্ত্রণ করার প্রবণতাও এসব সংঘর্ষের বড় একটা কারণ।
এসব সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হলেও শেষ পর্যন্ত কাউকেই শাস্তির আওতায় আনা যায় না। এক একটি মামলার অভিযোগপত্র হতেই লেগে যায় বছরের পর বছর।
পাঠক, আপনাদের জন্য চলতি বছরসহ বিভিন্ন সময়ে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সাথে অন্যান্যদের সংঘর্ষের বেশকিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছে একাত্তর।
চলতি বছরের গেলো ৩০ মার্চ রাত সাড়ে এগারটার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজ ও টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয় ১০ থেকে ১৫ জন।
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের পাশের রাস্তায় চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান।
গেলো ২৭ ফেব্রুয়ারী বেলা একটার সময় সংঘর্ষ হয় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের ছাত্রদের মধ্যে। এতে ঢাকা কলেজের পাঁচজন আহত হন।
এর মধ্যে দুইজন ছুরিকাঘাতে গুরতর আহত হন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান সাইন্স ল্যাব মোড়ে হঠাৎ সিটি কলেজের কয়কেজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা চালায়।
আগের কোন ঘটনার জের ধরে এমনটা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। এই ঘটনায় মামলা হয় ধানমন্ডী থানায়, গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে।
দু’মাস আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাউসিয়া মার্কেটের দোকান মালিকদের সাথে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় মার্কেটের ভেতরে ২০ থেকে ২৫টি দোকান ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। হামলায় অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। প্রায় ঘন্টাখানেক বন্ধ থাকে মীরপুর রোডে যান চলাচল।
এদিনও দোকানীদের সাথে তর্ক বিতর্কের ঘটনায় এমন সংঘর্ষের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীদের দাবি সামান্য কথার জের ধরে ছাত্রদেরে গায়ে হাত তোলে দোকানের কর্মচারী।
আর দোকান মালিক সমিতির দাবি, হামলাকারীরা ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে তাৎক্ষণিকভাবে জানায় পুলিশ।
২০১৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর বেশ বড় ধরণের সংঘর্ষ হয় ধানমন্ডি হকার্স এবং ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যে। এই ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি আহত হন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে হকার্স মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান ভাংচুর করা হয় এসময় রাস্তায় বেশকিছু গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। আগুন দেয়া হয় কয়েকটি মোটরসাইকেল।
ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী কেনাকাটা করে দাম দিতে না চাওয়ায় দোকানীদের কথা কাটাকাটিতে দু’পক্ষের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলেই জানা গিয়েছিলো প্রাথমিক তদন্তে।
২০১৩ সালের ৪ঠা মে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের মালিক-কর্মচারীদের। কথা কাটাকাটির জের ধরে এই সংঘর্ষ হয়।
কেনাকাটা নিয়ে তর্কের শুরু তারপর হাতাহাতি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ইট পাটকেল ছোড়ে ব্যবসায়ীদের দিকে। পরে ব্যবসায়ীরা চড়াও হলে শিক্ষার্থীরা কলেজের ভেতরে চলে যায়।
এই সংর্ঘষের কারণে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ওই এলাকায়। বেশ কয়েজন আহত হলেও এই ঘটনায় গুরুতর কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
একাত্তর/এসএ
