আত্মহত্যা করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার উপাচার্য বরাবর যে অভিযোগ দিয়েছিলেন তা বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি সাদেকা হালিমকে দেয়া হয়নি।
শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গণমাধ্যমকে উপাচার্য সাদেকা হালিম এ কথা জানিয়েছেন।
উপাচার্য জানান, অবন্তিকা উপাচার্য বরাবর যে অভিযোগ দেয়ার কথা ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সেই অভিযোগপত্র তাকে (ভিসি) দেওয়া হয়নি।
উপাচার্য বলেন, ফাইরুজ যে রিপোর্টের (অভিযোগপত্র) কথা বলেছে, সেটা আমাকে দেয়া হয়নি। সে বলেছে, তাকে হিউমিলিয়েটেড করা হয়েছে। সেই কমপ্লেইনের রেকর্ড আমাকে দেয়া হয়নি। সেই সহকারী প্রক্টরকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছি। তদন্ত রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কাজে যুক্ত হতে পারবেন না।
মাত্র তিন মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়টির দায়িত্ব পেয়েছেন উল্লেখ করে ড. সাদেকা হালিম আরও বলেন, এই অল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করার, চেষ্টা করছি। প্রক্টরিয়াল বডির প্রধানসহ পাঁচ জন সদস্য নতুন। যে কয়টি যৌন হয়রানি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শেষ হয়েছে আগামী সিন্ডিকেটে প্রত্যেকটির সুরাহা করা হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শুক্রবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। অবন্তিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে অবন্তিকা এ ঘটনার জন্য আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীকে দায়ী করে ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ফাইরুজ অবন্তিকার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস এলাকায় টায়ারে আগুন নিয়ে রাতে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাত থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দীকির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ তুলেন। পরে দোষী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
শনিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়, আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযোগ ওঠা আইন বিভাগের (২০১৮-১৯) সেশনের শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ফাইরুজ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘অভিযুক্ত আম্মান তাকে থ্রেট করতো, সে বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।’
ফাইরুজের অভিযোগপত্র উপাচার্যকে না দেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অভিযোগপত্রটি খুঁজে পাওয়া গেছে। সেটি অনেক পুরনো ফাইল। এ কারণে খুঁজে পেতে সময় লেগেছে। বিষয়টি উপাচার্যকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের ঘটনা নিয়ে অবগত ছিলাম না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সে যদি আসতো তাহলে ভিসি ম্যামের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নিতাম। বিষয়টি নিয়ে আমি অত্যন্ত দুঃখিত।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার পর উপাচার্য সাদেকা হালিম নিজ কার্যালয়ে অবস্থান নেন। উপাচার্য কার্যালয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ করেন। পরে তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
ছাত্রীর আত্মহত্যা: ‘দায়ী’ আম্মানকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা