সাধারণত তারকাদের রেস্তোরাঁ কিংবা হোটেলে খাবারের দাম আকাশছোঁয়া থাকে। সাধারণ মানুষ তার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেন না। ভারতের বিনোদন থেকে শুরু করে ক্রিকেট তারকাদের মধ্যে অনেকেই নাম লিখিয়েছেন রসনা বাণিজ্য। তাদের সব প্রতিষ্ঠানই অনেক দামী।
তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রিম ভারতের অন্যতম শীর্ষ সঙ্গীত তারকা অরিজিৎ সিং। তিনি সম্প্রতি খুলে বেসেছেন একটি খাবারের দোকান। নাম রেখেছেন হেঁশেল। তবে এই রেস্তোরাঁর খাবারের অন্য সবার মতো নয়। বরং দাম শুনলে যে কারো চোখ কপালে উঠবে, যাবেন চমকে।
পশ্চিমবঙ্গের লালবাগের জিয়াগঞ্জে যাত্রা শুরু করা সেই হেঁশেল খুবই কম মূল্যে ভরপেট খাবার পাওয়া যায়। রয়েছে পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ ছাড়। সোম থেকে শনিবার পড়ুয়াদের মাত্র ৪০ টাকায় ভেজ থালি পরিবেশন করা হয়। তাদের জন্য পার্সেলের ব্যবস্থাও রয়েছে।
পাশাপাশি সব খাবারের দামই পাশের জেলা বহরমপুরের থেকে প্রায় আড়াই গুণ কম। সেখানে একটি বাটার নানরুটির দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। হেঁশেলে ওই খাবারের দাম মাত্র ৫০ টাকা। কম দাম হলেও স্বাদ এবং গুণমান দারুণ।
রেস্তোরায় খেতে গিয়ে খাদ্য রসিকরা সব থেকে বেশি অভিযোগ তোলেন পরিষেবা নিয়ে। খাবার টেবিলে বসে দেরি মানতে পারেন না অনেকে। সেক্ষেত্রেও হেঁশেলের পরিষেবা মন জয় করেছে সবার। একবার যারা হেঁশেলে ঢোকেন তারা আসেন বারবার। কপাল ভালো থাকলে দেখা মেলে মিষ্টি হাসির অরিজিতেরও। তার মতোই তাদের রেস্তোরাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই।
লালবাগ থেকে পাঁচ কিমি দূরে জিয়াগঞ্জ। সেখানেই হেঁশেল, সকাল এগারোটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে। সেখানে দেশ-বিদেশের অতিথিদের সামলান অরিজিৎ সিংয়ের বাবা সুরেন্দ্র সিং ওরফে কাক্কা সিং। শহরে থাকলে রেস্তারাঁ সামলান অরিজিৎ নিজেও।
তাই হেঁশেলে অনেক অতিথিই যান কেশরিয়া গায়ককে দেখার আশায়। অরিজিৎ কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরও কেন রেস্তোরাঁয় পরিশ্রম করছেন অরিজিতের বাবা? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হেঁশেল চালানো শুধু মাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য নয়।
২৯ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি চলছে সস্তায় খাবার পরিবেশন। সঙ্গীত তার খ্যাতির পাশাপাশি এবার পারিবারিক রেস্তোরাঁ হেঁশেলের সুনাম বাড়ছে তরতর করে। জেলা, রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে জিয়াগঞ্জের হেঁশেলের সুখ্যাতি।
অরিজিৎ তার উপার্জনের সিংহভাগ খরচ করেন সমাজ কল্যাণে। তিনি তার শহর জিয়াগঞ্জে বড় স্কুল এবং হাসপাতাল গড়তে চান। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে দু’বেলা কম খরচে ভরপেট খাবার পান সেই দিকেও নজর রেখেছেন তিনি। তাই অরিজিতের পরিবার খুলেছে এই হেঁশেল।
একাত্তর/এআর
