হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। বর্তমানে তিনি আগের চেয়ে সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার তার বাড়ি ফেরার খবর জানিয়েছেন সুমনের ঘনিষ্ঠজন মনীষা দাশগুপ্ত।
মনীষা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কবীর সুমন আজ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থ আছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।’
এর আগে গেলো গত ২৯ জানুয়ারি শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বাংলা আধুনিক গানকে নতুন এক দিশা দেখানো ৭৫ বছর বয়সী কবীর সুমন।

সেদিন দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে মনীষা জানিয়েছিলেন, ‘কবীর সুমন শ্বাসকষ্ট নিয়ে আজ সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা চলছে। ডাক্তারদের নির্দেশে দেখা করার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।’
এমন খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গানওয়ালার অনুরাগীরা। তবে পরে সুমন নিজেই তার অসুস্থতার খবর জানিয়ে ভক্তদের চিন্তা করতে বারণ করেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘শ্বাসকষ্ট নিয়ে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছি। শিগগির সেরে উঠব, চিন্তা করবেন না।’
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার অসুস্থ সুমনকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
এখন নতুন গানের অ্যালবাম বের না করলেও বাংলা খেয়াল গান নিয়ে মেতে আছেন। যাকে শিল্পী নিজেই বলেছেন তার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ কাজ’। সাড়া জাগানো অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’ ছাড়াও, ‘বসে আঁকো’, ‘ইচ্ছে হল’, ‘গানওয়ালা’, ‘ঘুমাও বাউন্ডুলে, ‘চাইছি তোমার বন্ধুতা’, ‘জাতিস্মর’, ‘পাগলা সানাই’, ‘যাব অচেনায়’, ‘নাগরিক কবিয়াল’, ‘আদাব’সহ আরও কিছু অ্যালবাম সুমন প্রকাশ করেছেন গত তিন দশক ধরে।
শৈশবে বাবা সুধীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং মা উমা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সংগীতের হাতেখড়ি সুমনের। খেয়ালের তালিম নেন সংগীত শিক্ষক কালীপদ দাসের কাছে। শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নেওয়া সুমন একসময়ে রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক বাংলা গান গাইতেন রেডিওতে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ালেখা করা এই শিল্পী জীবনের শুরুর দিকে কাজ করেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে এবং পরে ভয়েস অব আমেরিকা এবং ডয়চে ভেলেতে।
গানের অ্যালবাম ছাড়াও সুমন বেশি পরিচিত হন তার কনসার্টগুলোয়। গিটার, পিয়ানো, মাউথঅর্গান বাজিয়ে গান গাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে দর্শকদের সঙ্গে কথোপকথনে সুমনের জুড়ি মেলা ভার।
সুমন চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনাও। কলকাতার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় ‘জাতিস্মর’ সিনেমায় সংগীত পরিচালনার জন্য সুমন পান জাতীয় পুরস্কার।
একসময় স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুর আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পাশে। তারপর যাদবপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে এমপি হন। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পরে তৃণমূল ছাড়েন সুমন। পরে সেই দূরত্ব কমেও যায়। নিজেকে মমতার সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।
গত বছরের নভেম্বরে সর্বশেষ ঢাকায় আসেন কবীর সুমন। তখন চার দিনের বাংলা খেয়াল কর্মশালার জন্য ঢাকায় আসেন তিনি।
এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। তার প্রথম আধুনিক গানের অ্যালবাম ‘তোমাকে চাই’ প্রকাশ হয় ১৯৯২ সালে। বাংলা গানের গতিপথ বদলে দেওয়া এ অ্যালবাম প্রকাশের ৩০ বছর পূর্ণ হয় ২০২২ সালে। এ উপলক্ষে ঢাকায় ‘তোমাকে চাই-এর ৩০ বছর উদ্যাপন’ শিরোনামে গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই সংগীতকার। বাংলা খেয়াল নিয়ে আলাদা একটি অনুষ্ঠানও করেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে নিজের অসুস্থতার কথা জানিয়ে কবীর সুমন বলেছিলেন, ‘আমার একটা অসুখ হয়েছে, এই অসুখের কারণে আমি যেমন হাতে লিখতে পারি না, তেমনই গিটারও বাজাতে পারি না। আর কোনো দিন পারবো না। একটানা বসে থাকলেও সমস্যা হয়। মাঝে মাঝে মনে হয় শুয়ে শুয়ে গান গাই! তবে এ জন্য আমার আলাদা কোনো দুঃখ নেই। গুরুদের কৃপায় আমি এখনো একটু একটু গান গাইতে পারি, এটাই আনন্দ।’
১৯৯৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর তৈরিতে তহবিল সংগ্রহের জন্য আয়োজিত কনসার্টে প্রথম ঢাকায় আসেন সুমন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় এসে অনুষ্ঠান করে গেছেন এই শিল্পী।
বুশরা বিবি সম্পর্কে যা জানা যায়
চকলেট খাব, বাড়ি যাব: মমতার কাছের সুমনের বায়না