বাংলা সেলুলয়েড জগতে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় সব সময়ই সাহসী অভিনেত্রী হিসাবে পরিচিত। একই সঙ্গে তিনি ভীষণ ঠোঁটকাটা বলেও পরিচিত। নিজের বয়স লুকিয়ে রাখতে একেবারে পছন্দ করেন না নায়িকা। এমনকি ওজন বা মেদকে পাত্তা দেন না। জীবনকে নিজের ছন্দে চালাতেই পছন্দ করেন স্বস্তিকা।
সামাজিক মাধ্যমে একাধিকবার বডি শেমিংয়ের শিকার হলেও, নিজের ৪৫তম জন্মদিনে অকপটে স্বীকার করে নিলেন এই শরীরকেই তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। জন্মদিনের দিন নৈসর্গিক অবকাশ কেন্দ্র মন্দারমণিতে তাকে বিকিনিতে দেখা গেল। সেই আগের মতোই ঝড় তুললেন নেট দুনিয়ায়।

বরাবরই নিজেকে খোলামেলা পোশাকে তুলে ধরতে পিছু পা হননি স্বস্তিকা। শরীর নিয়ে কটাক্ষ শুনলেও সেই কটাক্ষের পাল্টা জবাবও স্বস্তিকা বহুবার দিয়েছেন। এর আগেও তাঁকে সুইম পোশাকে বহুবার দেখা গিয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর স্বস্তিকার জন্মদিন। এদিন তিনি ৪৫ বছরে পা দিলেন।
জন্মদিনের দিনটা নিজের মতো করে কাটাবেন বলেই চলে যান গিয়েছেন মন্দারমণির সৈকতে। আর সেখান থেকেই হলুদ ও সাদা চেক বিকিনিতে দেখা গেল স্বস্তিকা বেশ কিছু পোজে ছবি তুলেছেন তিনি। মেকআপ ছাড়া, গলায় সাদা বড় পুঁতির মালা, চোখে রোদ চশমা। গলার একটু নীচেই তার গোলাপ ট্যাটু ফ্লন্ট করতেও ভুললেন না। তবে এই ছবি শেয়ার করে স্বস্তিকা জানালেন তাঁর মনের কথা।

অভিনেত্রী লিখেছেন, এই শরীরটা বেঁচে আছে। গর্ভে সন্তানধারণ করেছে। কাজ করেছে, যত্ন করেছে, দুঃখ এসেছে, আনন্দ করেছে, রাজনীতি করেছে, প্রতিরোধ করেছে। এমন একটা শরীর যা সমাজ যখন অদৃশ্য হতে বলেছিল তখন অবসর নেয়নি। এমন একটা দেহ যা এখনও জল, সূর্য, স্থান দাবি করে। যদি এটা কাউকে অস্বস্তিতে ফেলে, তবে ভালো।

বয়স যে কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র, এ কথা সব সময়ই মনে করেন এই অভিনেত্রী। তবে সমাজের বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা অনেক ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
স্বস্তিকার কথায়, বয়স বেড়ে যাওয়াটা সমস্যা নয়। সমস্যা হলো সেই সংস্কৃতি, যা নারীদের ভয় দেখিয়ে অনুমতি চাওয়া বন্ধ করে দেয়। সমুদ্র আমাদের আরও সহনশীল করে তুলুক, অধ্যবসায় শেখাক। পানিকে ধরে রাখতে দাও। আমার প্রিয় নারীকে ৪৫তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। সেলুলাইটযুক্ত উরু, পিগমেন্টেড ত্বক, বয়সের কারণে খুঁতে ভরা শরীরের জন্য অভিনন্দন। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে কেন নিষিদ্ধ হলো ‘ধুরন্ধর’