ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার বিষয়ে আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিশ্ব মোড়লদের কূটনৈতিক তৎপরতা। একদিকে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো হামলার তারিখ পর্যন্ত ফলাও করে প্রচার করছে, অন্যদিকে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। অথচ একইসময়ে সামরিক মহড়ার বাহানা দিয়ে প্রায় এক লক্ষ সৈন্য জড়ো করেছে ইউক্রেন সীমান্তে।
এমনই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব যখন আসন্ন যুদ্ধ নিয়ে চিন্তিত তখনও কূটনৈতিক চুক্তির মাধ্যেম এর সমাধান সম্ভব বলে দাবি করছেন যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা। তবে পরিস্থিতি এখনও সংকটপূর্ণ বলেই মনে করছেন তারা।
ফোনে প্রায় ৪০ মিনিট আলাপের পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দুই দেশের নেতা। রাশিয়ার সম্ভাব্য আক্রমণের ক্রমাগত তথ্য প্রাপ্তির পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মনে করছেন চুক্তির মাধ্যমে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব।
এদিকে এরইমধ্যে অন্তত ডজনখানেক দেশ তাদের নাগরকদের দেশটি ছেড়ে আসার নির্দেশনা দিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, যেকোনো সময়ে আকাশপথে এই হামলা শুরু হতে পারে।
ডাউনিং স্ট্রিটের দেয়া তথ্যমতে, এই উত্তেজনার মধ্যেও ইউক্রেন হামলা থেকে রাশিয়াকে বিরত রাখার জন্য কূটনীতির ‘জরুরি জানালা’ খোলা রয়েছে বলে মনে করছেন এই দুই নেতা।
আরও পড়ুন: বাইডেনের ইউক্রেন সফরের পরিকল্পনা নেই: হোয়াইট হাউস
বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের ওপর হামলার ফলাফল সরাসরি রাশিয়া এবং পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরিস জনসন যেকোনোভাবে সাহায্যের আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকে বাদ দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না বলে জানান জো বাইডেন। এসময় যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে দেয়া চাপ নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী মঙ্গলবার বৈঠকের আশা ব্যক্ত করেন বরিস জনসন।
এর আগে, মঙ্গলবার রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার জবাবে দেয়া এক বক্তৃতায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ১৬ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য আক্রমণের তারিখ উল্লেখ করে নিজ দেশের সেনাশক্তির প্রশংসা করেন।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের জবাব দেয়ার শক্তি আছে। আমাদের চমৎকার একটি সেনাবাহিনী আছে, যা আট বছর আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তবে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই সব সঙ্কট নিরসন করতে চান বলে জানান তিনি। চারদিকে এখন অন্ধকার মনে হলেও কাল আবারও শান্তির আকাশে সূর্য উঠবে- আশ্বাস দিয়ে ভাষণ শেষ করেন তিনি।
এদিকে, উস্কানিমূলক বক্তৃতার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কোনো কিছু করাই বাদ দেবেন না তিনি।
একাত্তর/টিএ
