শ্রীলঙ্কায় গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এতে অন্তত একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) কলম্বো পুলিশের একজন মুখপাত্র বিক্ষোভে গুলি চালানোর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওই পুলিশের কর্মকর্তা বলেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করায় গুলি চালানো হয়েছে।
তেলের তীব্র ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানী কলম্বো থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরের রামবুক্কানা শহরে সড়ক অবরোধ করে লোকজন বিক্ষোভ করে। জ্বালানির তীব্র ঘাটতির কারণে শ্রীলঙ্কাজুড়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু হয়। লাখ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা রাজধানীমুখী সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এবারই প্রথম সবচেয়ে বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে নিত্য-প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রীর তীব্র সঙ্কট চলছে। আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় দ্রব্যমূল্য আকাশ ছুয়েছে।
জ্বালানীর অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভাটা পড়ায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রের বাসিন্দাদের।
মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকায় দেশটিতে হু হু করে বাড়ছে খাদ্য-ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না দেশটি। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শ্রীলঙ্কার গণপরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা।
বিদ্যুৎ-খাদ্য-ওষুধ-জ্বালানি সংকটে অতিষ্ঠ শ্রীলঙ্কার জনগণ গত কিছু দিন ধরে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন বং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে কলম্বোসহ দেশের সব বড় শহরে আন্দোলন শুরু করেছেন তারা। জনগণের ক্ষোভের মুখে ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
একাত্তর/জো
