চীনের হুনান প্রদেশের আট তলা সেই ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩ জন হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভবন ধসের এ ঘটনা ঘটার পর থেকে কয়েকদিন ধরে চলা উদ্ধারকাজের পর শুক্রবার (৬ মে) সিসিটিভি নিহতের এ সংখ্যা জানায়।
সিসিটিভির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ এপ্রিল হুনান প্রদেশের আট তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনকে ঘটনার ৫ দিন ১১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়।
চীনা সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মে) মধ্যরাতের পরপরই এই নারীকে উদ্ধার করা হয়, ২৯শে এপ্রিল হঠাৎ করে ভবনের পেছনের অংশটি ভেঙ্গে পড়ার প্রায় ১৩২ ঘণ্টা পর।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঐ নারী সচেতন ছিলেন এবং উদ্ধারকারীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন যে কীভাবে তাকে আরও আঘাত না দিয়ে বাইরে বের করা যায়। অনুসন্ধান কার্যক্রমে কর্মীরা কুকুর এবং হ্যান্ড টুলের পাশাপাশি ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক লাইফ ডিটেক্টর ব্যবহার করেছিল।
উদ্ধারকর্মীদের একজন জানান, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে, যারা বেঁচে ছিল তাদের খাবার বা পানি ছাড়াই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল।
তবে ভবনটি কী কারণে ধসে পড়ল স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তা তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
'স্বনির্মিত ভবন' হিসেবে উল্লেখ করা এই ভবনটির মালিকসহ অন্তত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিল্ডিং কোড উপেক্ষা করা বা অন্যান্য নিয়ম লঙ্ঘন করার অভিযোগে এদের আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও নকশা ও নির্মাণের দায়িত্বে থাকা তিনজন এবং অন্য পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে, যারা ভবনের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ তলায় একটি গেস্ট হাউজের জন্য মিথ্যা নিরাপত্তা মূল্যায়ন করেছেন।
চীনে আগেও ভবন ধসের এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। দুর্বল অবকাঠামো, নিরাপত্তা অব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভবন ধসের এই সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গত মাসেই কাঠামোগত দুর্বলতাগুলি চিহ্নিত করার জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষার আহ্বান জানান।
একাত্তর/জো
