ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনের শস্য, সার ও কৃষি যন্ত্রপাতি চুরির অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। এবার এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।
সোমবার (২৭ জুন) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, ইউক্রেনের বেশ কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে রাশিয়ান বাহিনীর শস্য চুরির প্রমাণ পেয়েছে বিবিসির রিয়ালিটি চেক টিম।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রায় দুইশ' ইউক্রেনীয় কৃষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে বিবিসি। এদের মধ্যে বেশিরভাগ কৃষকই মুখ খুলতে রাজি না হলেও, কয়েকজন আসল নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রাশিয়ান সৈন্যরা তাদের শস্য চুরি করে তাদের শস্যখেত ও যন্ত্রপাতি বিনষ্ট করেছেন।
এমনই এক কৃষক দিমিত্রো (ছদ্মনাম) দাবি, রাশিয়ান বাহিনী বর্তমানে তার কয়েক হাজার হেক্টর জমির প্রায় ৮০ শতাংশ দখল করে ফেলেছে।
বিবিসি জানায়, একটি কোম্পানির সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সামরিক যানবাহনে স্পষ্টভাবে রাশিয়ান বাহিনীর 'জেড' প্রতীক দেখা গেছে। ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায়, এক সৈনিক সিসিটিভি ক্যামেরাটিকে লক্ষ্য করে গুলি করেন, তবে তা ব্যর্থ হয়।
কৃষক দিমিত্রো আরও জানান, রাশিয়ার কয়েকটি ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো ছিলে। সেটি ব্যবহার করে বিবিসি সেসব ট্রাকের গন্তব্যস্থল খুঁজে বের করেছে বলে দাবি তাদের।
ট্রাকগুলো রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া হয়ে রাশিয়াতে যাচ্ছে বলে দাবি বিবিসির। জিপিএস তথ্যে দেখা গেছে, ট্রাকগুলো ক্রিমিয়ার ওক্তিয়াব্রিস্কে শহরের একটি গুদামে গিয়ে থামে। শস্য লোড-আনলোড করার জন্য গুদামটি ব্যবহৃত হয়।

এ বছরের ১৪ জুনের একটি স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, গুদামের বাইরে সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। এটির পাশেই রয়েছে একটি রেললাইন, যেখান থেকে রাশিয়া বা ক্রিমিয়ার অন্যান্য বন্দরে শস্য পরিবহন করা যায়।
স্যাটেলাইট ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ইউক্রেন-ক্রিমিয়া সীমান্তে কার্যক্রম সম্প্রতি অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে গেছে। চনহার ও আরমিয়ানস্ক সীমান্তে এ কর্মতৎপরতা অস্বাভাবিক, কেননা ২০১৪ সালের পর থেকে ইউক্রেনের সাথে ক্রিমিয়ার স্থল যোগাযোগ নেই।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাকগুলো ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করে ফিরে আসতেও পারে। তবে সেগুলোতে সূর্যমুখীর বীজসহ অন্যান্য শস্য থাকা অসম্ভব নয়।

ইন্সটিটিউট ফর ব্ল্যাক সি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর বিশেষজ্ঞ আন্দ্রি ক্লিমেঙ্কো বিবিসিকে বলেন, এসব শস্য ক্রিমিয়া থেকে কের্চ ও সেভাস্তোপোল হয়ে সিরিয়া ও তুরস্কে রপ্তানি করা হয়ে থাকতে পারে। সেভাস্তোপোলেও জুন মাসজুড়ে অতিরিক্ত কর্মতৎপরতা দেখা গেছে বলে বিবিসির দাবি।
আরও পড়ুন: সেভেরোদোনেৎস্ক পতন: কোন দিকে চলেছে ইউক্রেন যুদ্ধ?
তবে ইউক্রেনীয় শস্য আমদানির অভিযোগ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।
এদিকে গত এপ্রিল থেকে কয়েকটি রাশিয়ান জাহাজের মেরিটাইম তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি দেখেছে, কৃষ্ণসাগরে ঢোকার পর নিজেদের ট্র্যাকারগুলো বন্ধ করে দেয় তারা।
একাত্তর/এসজে
