যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে লেখক সালমান রুশদির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় সন্দেহভাজন হাদি মাতারের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
স্থানীয় চৌতাকুয়া কাউন্টির প্রসিকিউটদের বরাতে শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জেসন শ্মিট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতার নিউ জার্সির বাসিন্দা। হত্যা চেষ্টা এবং হামলার অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হাদি মাতারের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে তিনি ‘শিয়া উগ্রবাদ’ এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন।
পুলিশের বিশ্বাস হাদি মাতার একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে ব্যাকপ্যাক এবং ইলেক্টনিকস সামগ্রি জব্দ করেছে। পূর্বে তার অপরাধের কোনো রেকর্ড আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের শটকুয়া ইন্সটিটিউশনের মঞ্চে বক্তৃতা করতে ওঠার সময় অভিযুক্ত হাদি মাতার হামলা চালান রুশদির উপর।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক শেয়ার বাজার ছাড়ার ঘোষণা পাঁচ চীনা কোম্পানির
১৯৪৭ সাল বোম্বে শহরে (বর্তমান মুম্বাই) জন্ম সালমান রুশদির। ১৪ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ড চলে যান। রাগবি শহরের একটি স্কুলে ভর্তি হন। পরে কেমব্রিজের কিংস কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। এরপর ব্রিটিশ নাগরিকত্বও অর্জন করেন রুশদি।
সালমান রুশদি প্রকাশিত প্রথম বই গ্রিমাস। খুব বেশি সাফল্য না পেলেও লেখক হিসেবে নিজের নাম পাকাপোক্ত করে তিনি। এরপর আসে দ্বিতীয় উপন্যাস মিডনাইট’স চিলড্রেন ১৯৮১ সালে মিডনাইটস চিলড্রেনের জন্য বুকার পুরস্কার জিতে নেন রুশদি। বিক্রি হয় পাঁচ লাখ কপি। ১৯৮৩ সালে আসে তৃতীয় উপন্যাস শেম।
কিন্তু ১৯৮৮ সালে যখন তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশ পায়, তখন সাড়া দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন রুশদি। স্যাটানিক ভার্সেস উপন্যাসে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা। এটি প্রকাশের পর থেকে রুশদি যেমন জনপ্রিয়তা পেয়ছেন তেমনই পেয়ছেন হত্যার হুমকি।
একাত্তর/আরবিএস
