জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতোটা চরম হতে পারে, চলতি বছর তা টের পাচ্ছে বিশ্বের অনেক অঞ্চলের বাসিন্দা। পৃথিবীর কোথাও চলছে তীব্র খরা, আবার কোথাও বন্যা।
পানির তল থেকে বেরিয়ে আসছে হারিয়ে যাওয়া গ্রাম, ডুবে যাওয়া জাহাজ, অতীতের খরার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়া ‘হাঙ্গার স্টোন’।
ফ্রান্সের দীর্ঘতম নদী লয়ার। এর কিছু জায়গায় এখন পায়ে হেঁটে পার হওয়া যায়। স্থানীয়রা বলছেন, এই নদীটি এর আগে কখনও এতোটা শুষ্ক হয়নি।
একই অবস্থা ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বড় বড় নদীর। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে খরার প্রভাবে কলোরাডো নদীর তীর শুকিয়ে এবং সরু হয়ে যাচ্ছে।
দেশটির সবচেয়ে বড় দুটি জলাধারের মধ্যে একটি হচ্ছে এই নদী। যার ওপর নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি অঙ্গরাজ্য ও প্রতিবেশী মেক্সিকোর চার কোটি মানুষ।
জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া রাইন নদী ইউরোপীয় জাহাজ যাতায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল। তবে, এই মুহূর্তে, সেখানে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু তাই নয় পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে যাচ্ছে যে, বেরিয়ে আসছে অতীতের খরার স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়া ‘হাঙ্গার স্টোন’।
অতীতে খরার সময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সতর্কবার্তা দিতেই পাথরে খোদাই করে বলেছে- নদীর পানি আবার এই স্তরে নেমে গিয়ে পাথরগুলো দৃশ্যমান হলে বুঝতে হবে সামনে দুর্ভোগ আছে।
চেক রিপাবলিক থেকে জার্মানির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এলব নদীর তীরে দৃশ্যমান হয়েছে এমন হাঙ্গার স্টোন।
আল্পসের শীতকালীন তুষার এবং বসন্তে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতি বছর পো নদীর চারপাশে বিধ্বংসী বন্যা হয়। তবে এবার, পো নদীর চেহারা বদলে গেছে।
ইতালির এই অঞ্চলটিতে গত সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র খরা চলছে। ফলে নদী এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, এর তলদেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে জার্মান বাহিনীর ‘জিবেলো’ রণতরী, যা ১৯৪৩ সাল ডুবে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: গ্রেপ্তারের পরই ছাড়া পেলেন রাজা সিং, রাতভর বিক্ষোভ
জাহাজ চলাচলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যানেল পশ্চিম ইউরোপের দীর্ঘতম নদী দানিউব। এই নদীর পানির স্তর নিচে নেমে বেরিয়ে এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ডুবে যাওয়া জাহাজ। যা এখনও বিস্ফোরকে ভর্তি।
একাত্তর/আরএ
