ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে কোনো প্রার্থীই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দ্বিতীয় রাউন্ডে গড়াচ্ছে ভোটগ্রহণ।
সোমবার (৩ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম রাউন্ডের ভোটগ্রহণে বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৮ শতাংশ, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোট। ফলে কেউই ৫০ শতাংশ না পাওয়ায় আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটগ্রহণ।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা লুলা দা সিলভা বলসোনারোর তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেশি পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। তবে প্রথম রাউন্ডে সমাধান না হওয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট পেতে ব্রাজিলকে আরও চার সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, হেরে গেলে পরাজয় স্বীকার নাও করতে পারেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বলসোনারোর বিপক্ষে লুলা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হলে নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার মতো সমর্থন বলসোনারো নাও পেতে পারেন। তবে প্রথম রাউন্ডের ফলের পর আগামী চার সপ্তাহে বলসোনারো আবার তার প্রচারণা চাঙ্গা করে তুলতে পারেন।
এদিকে, কারাগারে থাকার কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে তার এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকে বিস্ময়কর ফিরে আসা বলছেন অনেকেই।
বামপন্থী লুলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নির্বাচনে জিতলে আমাজন রেইনফরেস্টকে বাঁচাতে উদ্যোগ নেবেন তিনি। অন্যদিকে এই জঙ্গলকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চান বলসোনারো।
২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লুলার শাসনামলে তার পরিবেশ সম্পর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমাজন রেইনফরেস্টের যে ক্ষতি হয়েছে, সেই বিবেচনায় লুলাই এগিয়ে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইরানে দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে মৃত্যু বেড়ে ১৩৩
আবার ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্যও ব্রাজিলের জনগণের জন্য অন্যতম চিন্তার কারণ। নতুন প্রেসিডেন্ট যেই হোক না কেন, তাকে যে এসব বিষয় নিয়ে বেশ মাথা ঘামাতে হবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।
তবে, আপাতত প্রথম রাউন্ডের ফলকে নিজের জয় হিসেবে দেখতে চান উভয় প্রার্থীই।
একাত্তর/এসজে
