পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং সেসব অস্ত্র রাশিয়ার স্থাপনা ধ্বংসের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, এমন অভিযোগ তুলে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, সেসব দেশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে মস্কো।
শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ভ্যাসলি বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর দোনেস্ক অঞ্চলের স্পোর্টস এরেনাতে খাবার পানি বিতরণের সময় সেখানে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কামানের গোলাবর্ষণ করে। ইউক্রেনের সেনারা এসব কামানের গোলা পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে পেয়েছে।
পশ্চিমাদের দেয়া অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের সেনারা কার্যত শহরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, ২৭ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের সেনাদের হাতে দোনবাস অঞ্চলে ২২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত ও ৮০ জন আহত হয়েছেন। এর বাইরে বহু সংখ্যক ঘরবাড়ি ও স্কুল ভবন ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সমস্ত হামলায় ইউক্রেন আমেরিকার দেয়া হাইমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে।
ভ্যাসিলি বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর এ অপরাধের সমস্ত তথ্য রেকর্ড করছি। এ সমস্ত অপরাধমূলক তৎপরতার সাথে যারা জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুমকি দেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আরও সাড়ে ২৭ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম, ড্রোন-বিরোধী এবং বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
আরও পড়ুন: অবসরের হুমকি ফিরিয়ে নিলেন নেইমার
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে, গত নভেম্বর পর্যন্ত, ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ন্যাটভুক্ত দেশগুলোও ইউক্রেনকে নিয়মিত অস্ত্র দিয়ে আসছে।
মস্কো বলছে, এর ফলে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে ইউরোপ।
একাত্তর/আরবিএস
