আর্কটিক ঝড় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অংশকে গ্রাস করেছে। এর প্রভাবে দেশটির সাত লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছেন। এছাড়া, বৈরি আবহাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন মারা গেছেন। ফ্লাইট বাতিলে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন।
বড়দিনের আগে থেকেই এমন ‘বম্ব সাইক্লোনের’ দাপটে জবুথবু আমেরিকা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে কানাডাতেও। চলছে প্রবল তুষারপাতও। সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া। বহু জায়গায় তাপমাত্রা নেমে গেছে হিমাঙ্ক থেকে ৪৫ ডিগ্রি নিচে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, তুষার ঝড়টির ব্যাপ্তি ছিলো দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য টেক্সাস থেকে সবচেয়ে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য মাইন পর্যন্ত। অর্থাৎ তিন হাজার ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি।
এই ঝড়কে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এনডব্লিউএস।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঝড়ের তেজ খানিকটা কমে এলেও এখনও দেশটির বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে নিউ ফাউন্ডল্যান্ড পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ অংশেই এখনও চরম ঠাণ্ডা এবং শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতার অধীনে রয়েছে। দেশটির কিছু অংশে চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ মাইনাস ৪৫ থেকে মাইনাস ৭০ ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে। এরই মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে কয়েক রাজ্যে।

আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া এবং মিশিগানে ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। অন্য দিকে, বাফেলো এবং নিউইয়র্কে কমপক্ষে ৩৫ ইঞ্চি তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যার জেরে দৃশ্যমানতা শূন্যে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।
নতুন করে তুষারঝড়ের কবলে পড়তে পারেন কম করে ৮০ লাখ আমেরিকাবাসী। আমেরিকার নিউ ইংল্যান্ড, নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সির উপকূলবর্তী এলাকায় বন্যার কবলে পড়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর-পশ্চিমে সিয়াটল ও পোর্টল্যান্ডের বাসিন্দারা রাস্তায় স্কেটিংয়ে নেমেছেন।
আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের লুজিয়ানা, আলাবামা, ফ্লোরিডা এবং জর্জিয়ার মতো উষ্ণ রাজ্যেও প্রবল শীতের দাপট চলবে বলে সতর্কতা জারি করেছে এনডব্লিউএস।

এই তুষার ঝড়টিকে ‘বোম্ব সাইক্লোন’ বলা হচ্ছে, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না অনেকে।
ঝড়টি অনেকটাই ঘূর্ণিঝড়ের তেজ নিয়ে পূর্ণমাত্রায় নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে আঘাত হানে। এতে পুরো এলাকা সাদা চাঁদরে ঢেকে যায়। ফলে জরুরি অভিযান বাঁধার সম্মুখীন হয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্য তুষারপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।
মিনেসোটা, আইওয়া, উইসকনসিন এবং মিশিগানেও প্রায় একই অবস্থা। পথ-ঘাট বরফের স্তূপে যান চলাচলে ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক পিচ্ছিল হওয়ায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে বহু গাড়ি। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াতে সতর্ক করা হয়েছে।
একাত্তর/এসি
