তুরস্কে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ওপর মানুষের ক্ষোভও বাড়ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে, এবং একারণেই সোমবারের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
বিধ্বস্ত শহরগুলোর বাসিন্দারা বলছেন, দুর্গত লোকজনের কাছে পৌঁছানোর জন্য সরকারের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এরকম ক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই তুর্কী প্রেসিডেন্ট বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকা দেখতে যান।
কাহরামানমারাস শহরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্বীকার করেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা ছিল।
উদ্ধারকাজে বিলম্ব হওয়ার জন্য তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর ও রাস্তাঘাটকে দায়ী করেছেন। তবে তিনি বলছেন, উদ্ধারকাজ এখন স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
তিনি বলেন, শুরুতে বিমানবন্দর এবং সড়কে কিছু সমস্যা ছিল। কিন্তু আজ পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়ে এসেছে। আগামীকাল আরো সহজ হবে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি শহর পরিদর্শনের সময় তুর্কী প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আমাদের কাছে যা কিছু আছে তার সবই আমরা কাজে লাগিয়েছি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। রাষ্ট্র তার কাজ করে যাচ্ছে'।
তুর্কী কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত করা ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে সাড়ে আট হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সিরিয়ায় উত্তরাঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ।
এই ভূমিকম্পে দুটো দেশে নিহতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রাণহানির এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ধীরগতির অভিযোগ করছেন। পরিবারগুলো বলছে তাদের যেসব সদস্য নিখোঁজ রয়েছে তাদেরকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে খুঁজে বের করতে প্রয়োজনীয় সাহায্য তারা পাচ্ছে না।
অনেকে বলছেন, ভূমিকম্পের ৪৮ ঘণ্টা পরেও দুর্গত এলাকায় কোনো ত্রাণ-সাহায্য পৌঁছায়নি।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক ক্ষোভও তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ১১ হাজার ছাড়াল
অনেকেই বলছেন, এরকম দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য তুর্কী সরকারের কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছিলো না।
তুরস্কের প্রধান বিরোধী দলের নেতা কেমাল কিলিচাদারুগলু বলছেন, এজন্য যদি একজনকেও দায়ী করতে হয়. তাহলে তিনি এরদোগান।
একাত্তর/এসজে
