ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁকে চড় দিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত দুইজনের একজন জার্মানির সাবেক নাৎসি শাসক হিটলারের অনুসারি এবং অপরজন চরম দক্ষিণপন্থী ভাবধারার অনুসারি বলে জানা গেছে। খবর ডয়েচে ভেলে।
দেশটির সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্তের বাড়িই গ্রামে। তাদের উভয়ের বাড়িতে পুলিশি তল্লাসি চালানো হয়েছে।
মাক্রোঁকে চড় মারা ড্যানিয়েন ট্যারেল ইউটিউবে চরম দক্ষিণপন্থিদের চ্যানেলগুলো নিয়মিত সাবসক্রাইব করতেন। রাজতন্ত্র নিয়েও সে উৎসাহী ছিল। ফ্রান্সের মধ্যযুগের ইতিহাস সম্পর্কে সে পড়াশুনো করেছে। ইনস্টাগ্রামের পাতায় সে নিজেকে ন্যাশনাল ফেডারেশন অফ হিস্টরিক ইউরোপীয়ান মার্শাল আর্টের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে। লম্বা তলোয়ার নিয়ে মধ্যযুগীয় পোশাক পরে তার ছবিও আছে।
এদিকে চড় মারার ঘটনাটি ভিডিও করা আর্থার সি এর অভিযান চালিয়ে হিটলারের আত্মজীবনী 'মাইন কাম্ফ' উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও তলোয়ার, ছুরি, রাইফেলের মতো বেশ কিছু অস্ত্রও পাওয়া গেছে তার বাসায়। তিনিও মধ্যযুগের ফ্রান্সের একজন ভক্ত।
আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার দক্ষিণপূর্ব ফ্রান্সের একটি শহরে গিয়ে বিব্রতকর এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন মাক্রোঁ।
গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিকে অপমান করার অভিযোগ আনতে যাচ্ছে পুলিশ। এই অপরাধের জন্য তাদের সর্বোচ্চ তিন বছর জেল এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানা হতে পারে।
এদিকে চড় মারা ড্যানিয়েন ট্যারেল এর এক বন্ধু জানিয়েছে, রাজনীতি নিয়ে তার কোনো উৎসাহ নেই। তার চরিত্রের সঙ্গে চড় মারাটা একেবারেই মানানসই নয়।
