নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম-অস্বচ্ছতা ও কর্মীদের পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার কারণে বাংলাদেশ থেকে আর কর্মী নেবে না মালয়েশিয়ার পাম তেল উৎপাদক কোম্পানিগুলো। শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার দুটি কোম্পানি থেকে যুক্তরাষ্ট্র আমদানি নিষিদ্ধ করার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদনকারী দেশটির খামারিরা নৈতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এবং শ্রমের মান সংশোধন করার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।
মালয়েশিয়ার শ্রম-নির্ভর এস্টেটগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ অভিবাসী শ্রমিকরা আসেন ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ এবং নেপাল থেকে।
মালয়েশিয়া সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগের পর ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে সমস্ত নিয়োগ স্থগিত করে।
গত বছর দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন শ্রম চুক্তি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও, তিনটি প্ল্যান্টেশন কোম্পানি বলেছে যে তাদের সংস্থাগুলো বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেনি।
২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ করা হয়নি এমন একটি খামার আইওআই প্ল্যান্টেশন রয়টার্সের এক ইমেইলের প্রতিক্রিয়ায় বলে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মধ্যে পলাতকের হার বেশি, কারণ তারা জানত না যে তারা প্ল্যান্টেশন এস্টেটে কাজ করতে যাচ্ছে।
অন্য একটি কোম্পানির একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বাংলাদেশ থেকে কর্মীদের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং উচ্চ নিয়োগ ফির কথা উল্লেখ করেছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাইম ডার্বি প্ল্যান্টেশন বলেছে, তারা ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। সেই বছর কোম্পানিটি ‘শূন্য নিয়োগ ফি নীতি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিবর্তনও চালু করেছিল।
ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন তার ‘জোরপূর্বক শ্রম’-এর সূচকগুলোর মধ্যে বৃহৎ নিয়োগ ফি থেকে উদ্ভূত প্রতারণা এবং ঋণ বন্ধনকে স্থান দেয়।
কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও এবং নিয়োগের ফি বাবদ হাজার হাজার ডলার পরিশোধ করার পরও সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়া থেকে কয়েকশ কর্মী চাকরি ছাড়াই মালয়েশিয়ায় এসেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশি দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি। দূতাবাস গত মাসে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের চাকরি থেকে প্রতারিত হওয়া ঠেকাতে আরও স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: এগিয়ে আসছে মোখা, ৪ নম্বর স্থানীয় সংকেত
মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি শিল্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা দ্য রাউন্ডটেবিল অন সাসটেইনেবল পাম অয়েল (আরএসপিও) বলেছে, জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্য আমদানি ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত আইন পাম তেল শিল্পকে তাদের কার্যক্রমে মানবাধিকারকে আরও গুরুত্ব প্ররোচিত করেছে।
আরএসপিও’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোসেফ ডি’ক্রুজ বলেন, ‘সাধারণভাবে শিল্পটিতে আরও স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার ডাক দেয়া হচ্ছে। বহিরাগত স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ন্ত্রক থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তারা এই পরিবর্তনের আহবান করছে।’
একাত্তর/এসজে
