অজপাড়া গাঁয়ের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম তার। কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও সাইকেলে করে যেতেন স্কুলে। স্কুল শিক্ষক বাবা-মায়ের সেই সন্তান হয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। টানা ২২ বছরের শাসনে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। বলছি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ার অবিসংবাদিত নেতা ড. মাহাথির মোহাম্মদের কথা। তার স্মৃতি বিজড়িত গ্রামের বাড়তে যাবার সুযোগ হয়েছিলো এই প্রতিবেদককে।
একবিংশ শতাব্দীর এক অবিসংবাদিত নেতা ড. মাহাথির বিন মোহাম্মদ। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনও নিয়মিত সাইকেল চালান, ব্যায়াম করেন। ছেলেবেলার মতো এখনও রুটিন মেনে তার সকালটা শুরু হয় ফজরের নামাজের পর।

অফিস, বই পড়া, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচার দেয়া, দেশী বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার, রাষ্ট্রের জটিল বিষয় নিয়ে কথা বলা সবই তার নিয়মিত কাজেরই অংশ। ফেসবুকে প্রায় ৪ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে তার, সরব উপস্থিতি রয়েছে টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্লাটফর্মেও।
স্ত্রী হাসমাহ বিনতে মোহাম্মদ আলিকে নিয়ে ১০ জুলাই বেশ ঘটা করে শত বছরের জন্মদিন পালন করেছেন, মাহাথির। মালয়েশিয়ার এ স্বপ্নদ্রষ্টার জন্ম, কেদাহ রাজ্যের আলোর সেতারে। এখানেই জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা তার। ১৯৯০ সালে কেদাহ রাজ্য সরকার বাড়িটিকে সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসাবে জাদুঘর ঘোষণা করেন। দর্শনার্থীদের জন্য যা বিনামূল্যে ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে।

তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহার করা অনেক কিছু এই জাদুঘরে সযত্নে সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। শিক্ষক বাবা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাহাথিরের ছেলেবেলার বিরল ছবি, শিক্ষাজীবনে নানা অর্জন ও রাজনীতির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের স্মৃতিবিজড়িত সব ছবি স্থান পেয়েছে এ জাদুঘরের দেয়ালে দেয়ালে।
মাহাথির শিক্ষা জীবনে নিজেকে গড়েছেন সমাজের একজন সেবক হিসাবে, সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষে নিজ এলাকাতেই ফিরেছেন, যোগ দেন সরকারি চাকরিতে। মানুষের কাছে চিকিৎসক হিসাবে তার তুমুল জনপ্রিয়তা বড় পরিসরে জনগণের সেবক হয়ে উঠতে রাজনীতিতে যোগদানের অনুপ্রেরণা জোগায়।

১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছরের শাসনে দেশকে আধুনিক, উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী করেছেন। ২০১৮ সালে দেশের ক্রান্তিকালে, অবসর ভেঙে রাজনীতিতে ফিরে ৯৪ বছর বয়সে বিজয়ী হয়ে, গড়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড।
ল্যুভরের আগে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে যতসব বড় চুরি!