ভারতের ওড়িশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০১ জনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। অপরদিকে দুর্ঘটনার পর থেকে ৩০ বাংলাদেশির কোন খোঁজ না পেয়ে কলকাতার বাংলাদেশি উপ-দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন স্বজনরা।
ভারতের রেল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, যে মরদেহগুলো এখনো মর্গে পড়ে আছে তাদের পরিচয় শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা সরকার স্বজনদের মরদেহ খুঁজে পেতে বিশেষ বুথের ব্যবস্থা করেছে। যৌথ উদ্যোগে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস ভুবনেশ্বরে (এইমস ভুবনেশ্বর) বসানো হয়েছে ওই হেল্প ডেস্ক।
বাংলাদেশি যাত্রীদের খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে তা যাচাই করে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন দেখেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাম নেই যাত্রীদের। এছাড়া বহুজনের যোগাযোগের নম্বর একই।
রেল ও হাই কমিশনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যোগাযোগ করে টিকিট বুকিং এজেন্টদের সঙ্গে। তারা জানান, বাংলাদেশি নাগরিকরা সাধারণত কলকাতা থেকে এজেন্ট মারফত ট্রেনের টিকেট করে থাকেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সফরকারী যাত্রীদের নিজেদের নামের বদলে এজেন্টের দেওয়া নামে টিকেটগুলো বুকিং দেওয়া হয়। এমনকি এক নম্বরের বিপরীতে একাধিক টিকেটও দেওয়া হয়।

ফলে যাদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি তাদের মধ্যে বাংলাদেশি থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব মধ্য রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রিনকেশ রায় সাংবাদিকদের জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১১শ’ মানুষ আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৯শ’ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ২০০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসা চলছে।
আরও পড়ুন: পানির নিচে নোভা কাখোভকা, খেরসনে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা
যে মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি সেগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ উদ্বেগে আছে। এতগুলো দেহ একসঙ্গে রাখা কঠিন বলে কয়েকটি মর্গে ভাগ ভাগ করে রাখা হয়েছে।
একাত্তর/আরএ
