ভারতের ওড়িশার বালেশ্বরে ভারতের ইতিহাসে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি যাত্রীদের খোঁজ করতে কার্যত ঘাম ছুটছে কলকাতার বাংলাদেশি উপ দূতাবাসের।
দূতাবাসটি বলছে, বালেশ্বরে দুর্ঘটনা কবলিত দুটি ট্রেনেই বাংলাদেশি যাত্রী ছিলেন। পাসপোর্টে থাকা নামের তালিকার সঙ্গে রেলের টিকেটে থাকা নামের মিল নেই। একই সঙ্গে একাধিক যাত্রীর যোগাযোগ নম্বরও একই। তাই তাদের খোঁজ মিলছে না।
হাই কমিশন ও রেলে সূত্র জানিয়েছে, ৩০ জনের বেশি বাংলাদেশি যাত্রীর খোঁজ পেতে তাদের পরিবার আবেদন করছে। দিয়েছেন ছবিও। কিন্তু ছবির সঙ্গে মরদেহ না মিলেও বাকি তথ্য মিলছে। এমন অবস্থায় মরদেহের ছাড়পত্র পেতে পরিবারগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে।

এ ব্যাপারে উপরাষ্ট্র দূত আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা কলকাতায় এসে ট্রেনে করে অন্য কোনো রাজ্যে সফরের ক্ষেত্রে টিকেট নিজেদের নামে করা উচিত। সম্ভব হলে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করুন। কারণ ট্রেনের যাত্রী তালিকায় শুধু যাত্রীদের নাম এবং তার পাশে মোবাইল নম্বরটি দেওয়া থাকে। ট্রেন দুর্ঘটনার পর আমরা যখন আহত যাত্রীদের নাম পাই, সেখানে রেলের তরফে দেওয়া যাত্রী তালিকার সঙ্গে কোনো মিল নেই। কারণ তাদের অনেকেই ট্রাভেল এজেন্ট মারফত অন্য কোনো ব্যক্তির নামে সেই টিকেট কিনেছেন। ফলে সেই ব্যক্তির নাম দেওয়া আছে।
ওড়িশায় দুর্ঘটনায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা প্রকৃত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি।
উপ রাষ্ট্রদূত বলেন, ময়মনসিংহের মিনহাজ উদ্দিনের পরিবারের তিন সদস্য ছাড়াও এখনও ওই ট্রেনে সফর করা বাংলাদেশের একাধিক যাত্রীর সন্ধান মিলেছে। তাদের মধ্যে রাজশাহীর বাসিন্দা মো. রাসেলুজ্জামান (২৭) দেশে ফিরে গেছেন। পাবনার বাসিন্দা মো. আসলাম শেখ (৩৩), খুলনার বাসিন্দা রূপা বেগম খান এবং ঢাকার দুই বাসিন্দা খালেদ বিন আওকাত (৫০) ও মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন (৩৫), গোপালগঞ্জের বাসিন্দা সাজ্জাদ আলি, মোর্শেদ আলম (৪৫) কুমিল্লার মনসুর আলি সবাই কলকাতায় ফিরে এসেছেন।
এছাড়া গাজীপুরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও পারভিন আক্তার চিকিৎসার জন্য আবারও ভেলোরে চলে গেছেন।
ভারতের ওড়িশার বালেশ্বরে ভারতের ইতিহাসে ভয়ঙ্কর রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবারের ওই রেল দুর্ঘটনায় ২৭৮ জন নিহত ও সহস্রাধিক আহত হয়েছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে ৭৯৩ জনকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একাত্তর/এসি
