ইউক্রেনে বিতর্কিত ক্লাস্টার বোমা পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেক্সি রেজনিকভ। তবে এসব অস্ত্র রাশিয়ায় ব্যবহার করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বিশ্বের বহু দেশে বিপজ্জনক এই বোমার ব্যবহার নিষিদ্ধ।
এই বোমাগুলো বাতাসে খুলে যায় এবং ভেতর থেকে অনেক ছোট বোমা ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দেওয়া অনেক বোমা প্রায়ই বিস্ফোরিত হয় না এবং পরে সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটায়। আমেরিকা ইউক্রেনকে এসব বোমা দেয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এতে ইউক্রেন খুশি হলেও ন্যাটো দেশগুলো এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটনের এই সহায়তা ইউক্রেনের ভূখণ্ডকে মুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী। টুইটারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রেজনিকভ আরও বলেন, ইউক্রেন এই অস্ত্র শুধুমাত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অঞ্চল দখলমুক্ত করতে ব্যবহার করবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতলি অ্যান্তোনভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেনে ক্লাস্টার বোমা পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু পশ্চিমা দেশও আপত্তি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত শুক্রবার ঘোষণা দেয় যে দখলদার রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণের জন্য তারা ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দেবে। ক্লাস্টার বোমা ব্যাপকভাবে নিষিদ্ধ অস্ত্র। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এই অস্ত্র তার দেশের সেনাদের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে।
ওলেক্সি রেজনিকভ বলেন, ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ (রেকর্ড) করার বিষয়টি তারা কঠোরভাবে অনুসরণ করবেন। এ সংক্রান্ত তথ্য কিয়েভ তার অংশীদারদের সঙ্গে বিনিময় করবে। আমাদের অবস্থান সোজাসাপটা-অস্থায়ীভাবে দখল হয়ে যাওয়া এলাকাগুলো আমাদের মুক্ত করতে হবে এবং আমাদের জনগণের জীবন বাঁচাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন এই অস্ত্র ব্যবহার করবে শুধু কিয়েভের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অঞ্চলগুলো দখলমুক্ত করার জন্য। রাশিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। তবে এনিয়ে ব্যাপক শঙ্কা রয়েছে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে।
আরও পড়ুন: রাতভর পার্টি করে শিশুর কথা ভুললেন দম্পতি, গরমে গাড়িতে মৃত্যু
বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে ক্লাস্টার বোমার উৎপাদন, মজুত ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে এই বোমার উৎপাদন, মজুত ও ব্যবহার বন্ধে বিশ্বের ১২৩টি দেশ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি সই করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়া এই চুক্তিতে সই করেনি।
একাত্তর/এসি
