চারিদিকে ধ্বংসস্তূপ। হাহাকার, মৃত্যু আর ক্ষুধা গ্রাস করেছে পুরো গাজা উপত্যকা। বাড়ছে রোগ আর শোক। আনন্দ নেই কোন ফিলিস্তিনির মনে। তারপরও যতদিন শ্বাস ততদিনই আশ। এমন মানসিকতা নিয়েই হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই বিয়ে করলেন গাজার দুই তরুণ-তরুণী।
সবেই বিয়ে করলেন তারা। কিন্তু হাসতে পারছেন না মন খুলে। নবদম্পতির মনে যতোটা আনন্দ থাকার কথা তার কিছুই নেই মোহাম্মদ আল ঘানদৌর ও শাদাদের মনে।
বাজেনি কোন সানাই, জ্বলেনি রঙিন বাতি। আতশবাজির বদলে চারিদিকে ফাটছে যখন একের পর এক বোমা, কী করে কারো মনে দোলা দিতে পারে বসন্ত বাতাস?
তারা বলেন, খুব ইচ্ছে ছিলো ধুমধাম করে বিয়ে করবো। নিজের ,বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় স্বজন সবাইকে দাওয়াত দেবো। ভাই বোনেরা সবাই থাকবে বিয়েতে। কিন্তু তা হলো না। যুদ্ধে আমার ২০ জন আত্মীয় মারা গেছে।
বর বউ দুজনের বিয়ের পোশাক, গহনা এমনকি নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় ঘরের আসবাবপত্রও সব কেনা হয়ে গিয়েছিলো। প্রস্তুতি ছিলো বড় করে অনুষ্ঠান করার।
কিন্তু ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া বোমার আঘাতে ধসে পড়ে সেই বাড়ি, যেখানে নতুন বউ হয়ে ওঠার কথা ছিলো শাহাদের। তিনি বলেন, আড়াই হাজার ডলার মূল্যের পোশাক কিনেছিলাম বউয়ের জন্য।
আরও বলেন, ফার্নিচার থেকে শুরু করে এমন কিছু ছিলো না যেটা কেনা বাকি। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেছে হামলায়। এখন আমরা কিছু চকলেট, বিস্কুট, বাদাম এসব দিয়ে বিয়ে সারছি।

স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে মেয়ে শাদাদের মা উম ইয়াহিয়া খলিফারও। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের প্রথম বিয়ে। ইচ্ছে ছিলো মেয়ের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটা খুবই দারুণভাবে উদযাপন করার।
উম ইয়াহিয়া বলেন, অনেক খুশি ছিলো ও বিয়ে নিয়ে। কিন্তু তার কিছুই হলো না। বোমা হামলায় সব শেষ হয়ে গেছে আমাদের। তাই মেয়ের বিয়েতে যতোই খুশি হতে চাই না কেন, আসলে সবই অসম্পূর্ণ।
মোহাম্মদ আল ঘানদৌর জানান, নববিবাহিত হলেও মনে আনন্দ নেই তার। তবুও স্ত্রীকে সুখে রাখার চেষ্টা করবেন তিনি। যদি আনন্দিত কিনা জানতে চান, আমি বলবো, না আসলে। যা ভেবেছিলাম তার কিছুই হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সংসার শুরু করবো কখনো ভাবিনি। তারপরও আমি চেষ্টা করবো নিজের স্ত্রীকে সুখে রাখার। কারণ এটা তার অধিকার। প্রতিটি মেয়েরই সুখে থাকার অধিকার আছে।
মোহাম্মদ আল ঘানদৌর বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে আর এই সময়টা বেঁচে থাকতে পারলে নতুন করে ঘর বাধবেন স্ত্রীকে নিয়ে। এখন এই আশাতেই রয়েছেন তারা।
খান ইউনিসের হাসপাতালেও ইসরাইলি হামলা