লোহিত সাগরে হুথিদের তাণ্ডবে যখন দিশেহারা যুক্তরাষ্ট্র, ঠিক তখনই হুথিদের জব্দে পাল্টা আঘাতে মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। আর এসব হামলার জেরেই চলতি মাসের শুরুতে এডেন উপসাগরে নিখোঁজ দুই মার্কিন নৌসেনার খোঁজ মেলেনি এখনো। তাদের খুঁজতে গিয়ে ১০ দিন ব্যয় করেছে ওয়াশিংটন। আর সে কারণেই দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছিল, ১১ জানুয়ারি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের জন্য ইরানের পাঠানো একটি অস্ত্রের চালান জব্দে এডেন উপসাগরে অভিযান চালাতে যায় মার্কিন নেভি সিলসের সদস্যরা। ঠিক তখনই নিখোঁজ হন ওই দুই সেনা। মাস্তুল তোলা ছোট নৌকায় চড়ে সোমালিয়া উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অভিযান চালায় নেভি সিলসের সদস্যরা।
রোববার সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ১০ দিন নিবিড়ভাবে খোঁজ করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের নেভি সিলসের দুই সেনাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করছি। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে গেল নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ইসরাইলি সম্পৃক্ততা আছে এমন জাহাজে হামলা শুরু করে হুথি বিদ্রোহীরা।
চলতি মাসে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে ইয়েমেনে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীরাও আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি দুটো মার্কিন জাহাজেও হামলা চালায় ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠী।
বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ বাব আল মান্দেব প্রণালি দিয়ে হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়েমেন আর জিবুতি লোহিত সাগরের প্রবেশপথেই অবস্থান। তবে হুথিদের হামলার ভয়ে এখন অনেক জাহাজকেই আফ্রিকার ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এতে করে জাহাজগুলোকে পাড়ি দিতে হচ্ছে হাজারো মাইল পথ। যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্যে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। বেড়ে যাচ্ছে পণ্য পরিবহনের খরচ।
হুতিদের অস্ত্র ধরতে গিয়ে নিখোঁজ দুই মার্কিন কমান্ডো