কারাগারে মারা যাওয়া পুতিন সমালোচক ও বিরোধীদলের নেতা আলেক্সেই নাভালনির মৃতদেহ আরও দুই সপ্তাহের ভেতর ছাড় পাচ্ছে না, কর্তৃপক্ষ এমনটি জানালো তার পরিবারকে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিশ্লেষণের জন্য নাভালনির মরদেহ এখনই তার মা'কে দেওয়া হবে না। রাশিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এবং তা শনাক্ত করার কোন প্রচেষ্টাই কাজে দিচ্ছে না।
নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া তার স্বামীর মৃত্যু ও তার দেহ লুকানোর জন্য পুতিন ও তার সরকারকে দায়ী করেছেন।
সোমবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ান নিউজ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ‘মুক্ত রাশিয়ার’ জন্য লড়াই চালিয়ে প্রতিজ্ঞা করেন নাভালনায়া। সেই ভিডিওতে সরাসরি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে তার স্বামীর হত্যা জন্য দায়ী করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে নার্ভ এজেন্ট ‘নোভিচকের’ দ্বারা বিষক্রিয়ার চিহ্ন না মোছা পর্যন্ত নাভালনির দেহ ফেরত দেবে না কর্তৃপক্ষ।
ভিডিওতে নাভালনায়া রাশিয়ার জনগণকে তার পাশে দাঁড়াতে বলেন এবং আরও জানান, যারা আমাদের ভবিষ্যতকে হত্যা করার সাহস করেছে তাদের জন্য ক্রোধ ও ঘৃণা।
শুক্রবার আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে একটি কারাগারে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার পর আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যু হয়েছে বলে রুশ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়। কিন্তু এখনও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করে বলেনি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে সাইবেরিয়ায় তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। ক্রেমলিন তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। সেসময় রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছিল, তাকে নার্ভ এজেন্ট দিয়ে বিষপ্রয়োগের কোনো প্রমাণ নেই।
গত এক দশকে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা ছিলেন অ্যালেক্সেই নাভালনি। দেশটির রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে কট্টর সমালোচক হিসেবে দেখা হতো তাকে। পুতিন ও ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি আন্দোলন করে আসছিলেন। যার ফলস্বরূপ রাশিয়ার একটি আদালত তাকে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো।
গত বছরের শেষের দিকে নাভালনিকে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর কারাগার হিসেবে পরিচিত আর্কটিক পেনাল কলোনিগুলোর একটিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল নাভালনিকে। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিলো ৪৭ বছর।
নাভালনির মৃত্যুতে ক্ষিপ্ত রাশিয়ার জনগণ। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অপরাধে ইতিমধ্যে ৪০০ বেশি রাশিয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সরকার এবং এই সংখ্যা প্রতিদিন আরও বাড়ছে।
