অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ থেমে যাবে এমন কোনো প্রস্তাব মানবেন না বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের সাথে সাক্ষাতে তিনি নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল-মনিটর জানিয়েছে, নেতানিয়াহু জানিয়েছেন হামাস যদি যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তাব দেয় তা মানা হবে না। ইসরায়েল অবশ্যই রাফাহতে সামরিক অভিযান চালাবে।
সম্প্রতি ব্লিঙ্কেন ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখনই যুদ্ধ থামিয়ে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া জরুরি।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, ব্লিঙ্কেন রাফা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি আবারও দক্ষিণ গাজার এই শহরে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিকদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ জানিয়েছেন।
৭ অক্টোবরের হামলার পর সাতবার মধ্যপ্রাচ্য সফর করেছেন ব্লিঙ্কেন। সপ্তম সফরে তিনি নেতানিয়াহুর জেরুজালেম কার্যালয়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। প্রথমে তিনি একা আলোচনা করেন পরে তার সহযোগীরা সঙ্গে ছিলেন।
ইসরাইল-হমাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নের আশা করছেন মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক। এতে জিম্মিদের মুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে গেলেও রাফায় অভিযান থেকে বিরত থাকবেন না।
বৈঠকে গাজায় আরও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে চাপ দিয়েছেন ব্লিঙ্কেন।
গত মাসে মার্কিন চাপে ইসরাইলে অবরুদ্ধ অঞ্চলে অতিরিক্ত সহায়তা রুট খুলতে সম্মত হওয়ার পর থেকে সাহায্য বিতরণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্লিংকেন। তিনি এই পরিস্থিতি আরও এগিয়ে নিতে এবং এটি সবসময় বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যানের এএফপি-র সমীক্ষা অনুযায়ী ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরাইলে হামাসের হামলার ফলে ১ হাজার ১৭০ জন নিহত হয়। এরপর গাজা যুদ্ধ শুরু হয়। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক।
তবে ইসরাইলের পাল্টা আক্রমণে গাজায় কমপক্ষে ৩৪ হাজার ৫৬৮ জন নিহত হয়েছে যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
