কথায় বলে, শরীরের অসুখ ওষুধে সেরে গেলেও, মনের অসুখ সারাবে কে? এমনই এক চরম বাস্তবতার মুখে আছে ইসরাইলের হাজার হাজার সেনা। গাজা উপত্যকায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে মানসিক রোগী হয়ে ফিরছেন আইডিএফ সেনারা, আর তাদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়তে থাকায় ঘুম হারাম ইসরাইলের।
ইসরাইলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোশে আরবেল নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ফিলিস্তিনি বাহিনীর প্রতিরোধের কারণে তাদের সেনাদের মানসিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রকমের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্মরণকালের ইতিহাসে তাদের সেনারা সবচেয়ে বিপজ্জনক মানসিক সংকটে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্কট আরও প্রকট হচ্ছে।
আইডিএফ বরাতে টাইমস অব ইসরাইল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরের সাত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজা যুদ্ধে অংশ নেয়া সেনাদের মধ্যে আশি ভাগই কোন না কোন ধরনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ, ৩৫ হাজারের বেশি সেনা মাসনিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি শীর্ষ সংবাদ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, সংঘাত শুরুর পর, মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পেতে দেশটির স্বাস্থ্য সেবা হটলাইনে কল করেছে ৩৫ হাজারের বেশি ইসরাইলি সৈন্য। এছাড়া তিন শতাধিত সেনাকে মানসিক সমস্যার কারণে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
হামাসের গেরিলা যুদ্ধ কৌশল ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এই বুঝি হামাস এলো, এমন শঙ্কায় স্লিপিং খেয়েও ঘুমাতে পারছে ইহুদি সেনারা। উল্টো দুঃস্বপ্ন দেখছেন। সেই সঙ্গে নির্বিচারে নিরীহ ফিলিস্তিন নারী ও শিশু হত্যার বিষয়টিও গভীর ক্ষত তৈরি করছে সেনাদের মনে।
ইসরাইলি চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গাজায় যুদ্ধের ফলে সেনা সদস্যরা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে বা পি.টি.এস.ডি-তে ভুগছেন। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সৈন্যদের চিকিৎসার জন্য একটি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরাইলের সেনাবাহিনী।
ইউরেশিয়া জার্নালে প্রকাশিত ইসরাইলের রুপিন একাডেমিক সেন্টার ও যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২৯ শতাংশ ইসরাইলি সেনা সদস্য পিটিএসডি, ৪২ শতাংশ বিষন্নতা এবং ৪৪ শতাংশ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মতো মানসিক সমস্যা ভুগছেন কিংবা ভুগছিলেন।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ক্লিনিক্যাল বিভাগের প্রধান ইয়েখিয়েল লেভেচিৎজ জানিয়েছেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাজার হাজার সেনাকে সেবা দিয়েছে। এদের মধ্যে বড় একটি অংশকে আবারও দায়িত্বে ফেলত পাঠানো গেলেও অনেকের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলো যে, বরখাস্ত করতে হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে মানসিক সমস্যা এতোটাই বিপজ্জনক পর্যায়ে পড়েছে যে, কোন কোন সেনা সদস্য যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। ইসরাইলি সংবাদপত্র হারেৎজ বলছে, গত অক্টোবর থেকে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় কমপক্ষে দশজন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যা করেছে।
ইসরাইলের বিরোধী দলীয় রাজনীতিবদরা মনে করেন, সেনা সদস্যদের এমন দশার জন্য যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই একমাত্র দায়ী। তারা মনে করেন, গাজায় আট মাসের বেশি সময় ধরে বন্দিদের মুক্তির চেয়েই নিজ দলের পিঠ বাঁচাতেই বেশি ব্যস্ত সময় পার করছেন নেতানিয়াহু।
